ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]
বর্জ্য অপসারণ

কথা-কাজে মিল নেই ডিএসসিসির, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০:১২, ১৯ জুন ২০২৪
কথা-কাজে মিল নেই ডিএসসিসির, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নগরবাসী
গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ঘোষণা দিয়েছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানিকৃত পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হবে। কিন্তু কথা রাখতে পারেনি তারা। এখনো বর্জ্য স্তূপ আকারে পড়ে আছে এই সিটির বহু এলাকায়। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। তবে সিটি কর্পোরেশনের দাবি, দক্ষিণের ৭৫টি ওয়ার্ডের শতভাগ বর্জ্য সরিয়ে ফেলেছেন তারা।

বুধবার দক্ষিণ সিটির ওয়ারি, দয়াগঞ্জ, ধোলাইখাল ও দক্ষিণ বনশ্রীসহ বেশকিছু এলাকাতে গিয়ে দেখা গেছে, বর্জ্য স্তুপ করে রাখা আছে, রাস্তার পাশে আজও। কোরবানির বর্জ্য অপসারিত না হওয়ায় দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের।

একপাশে বংশাল, অন্যপাশে সুরিটোলা। দুই এলাকার মাঝ বরাবর মূল সড়ক। সেই সড়কের দু’ধারেই পড়ে আছে কোরবানির বর্জ্য। বংশাল দক্ষিণ সিটির ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড আর সুরিটোলা ৩৪ নাম্বার ওয়ার্ড। 

Advertisement

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ সিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দাবি করা হয়, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডটি শতভাগ বর্জ্যমুক্ত হয়েছে ঐ দিন বিকেল সাড়ে ৫টায়। আর ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বর্জ্যমুক্ত হয় বিকেল ৩টায়। সিটি কর্পোরেশনের দাবি, বাকি ৭৩টি ওয়ার্ড রাত ১০টার আগেই শতভাগ বর্জ্যমুক্ত হয়েছে।

শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়, কোরবানি করার স্থানে দেয়া হয়নি ব্লিচিং পাউডার। বৃষ্টির পর এ বর্জ্য ড্রেনে গিয়ে পড়লে জলাবদ্ধতার শঙ্কায় রয়েছে নগরবাসী।

নগরবাসীরা জানান, বর্জ্য না সরানোতে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। আবার পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্লিচিং পাউডারও ছেটানো হয়নি। সিটি কর্পোরেশন থেকে বলা হয়েছে শতভাগ বর্জ্য সরানো হয়েছে। কিন্তু রাস্তার পড়ে আজও পড়ে আছে কোরবানির বর্জ্য। পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বাড়িঘরে টিকে থাকা যাচ্ছে না।

এদিকে অবশ্য আজও কোরবানি হয়েছে রাজধানীর অনেক স্থানে। বিশেষ করে পুরান ঢাকায় ঈদের তিন দিনই কোরবানি দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।

দক্ষিণ সিটির কর্মীরা জানান, তিন দিন ধরে কোরবানি দেওয়াতে একই এলাকা থেকে দফায় দফায় বর্জ্য অপসারণ করতে হচ্ছে তাদের। বার বার একই কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

নগরবাসী জানান, আজও কোরবানি হয়েছে সেটি সত্য, তবে তা সংখ্যায় খুবই কম।

সোমবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের জানিয়েছিলেন, কোরবানির পশুর শতভাগ বর্জ্য ৩৪টি ওয়ার্ড থেকে অপসারণ করা হয়েছে। 

সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত শতভাগ বর্জ্য অপসারণ হওয়া ওয়ার্ডগুলো হলো- ১,৫, ৭, ৯, ১০, ১২, ১৩, ১৬, ১৭, ২০, ২৫, ২৭, ২৮, ৩০-৩২, ৩৫-৩৭, ৩৯, ৪৩, ৪৫, ৪৮, ৪৯, ৫২, ৫৪, ৫৬, ৫৭, ৬৯, ৭০-৭৩, ৭৫। 

আর একইদিন দুপুরে দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, বর্জ্য অপসারণে ২৪ ঘণ্টার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার অনেক আগেই অপসারণ সম্ভব হবে।

তবে ঈদের আগেই তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র চলে যান। সেখান থেকেই অনলাইনে যুক্ত হয়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

এগিয়ে উত্তর সিটি-

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার চারটি ওয়ার্ড (১৯, ২০, ২৪, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড) ঘুরে কোথাও কোরবানির বর্জ্য দেখা যায়নি। 

সংস্থাটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশে ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে (৬ ঘণ্টায়) সব ওয়ার্ডে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছে ডিএনসিসি। 

একইভাবে ঈদের দ্বিতীয় দিনের বর্জ্যও অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার (১৯ জুন) ঈদের তৃতীয় দিনে তেমন কেউ পশু কোরবানি দেয়নি।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন জানান, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে রাত ৮টায় নির্ধারিত ৬ ঘণ্টায় সবগুলো ওয়ার্ডের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করে ডিএনসিসি। একইভাবে ঈদের দ্বিতীয় দিনে দেওয়া কোরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করেছে সংস্থাটি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস/আরআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!