ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাতরং ]
‘আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু দিবস'

ঢাকার বায়ু, কমাচ্ছে আয়ু!

এস এম মুকুল
প্রকাশিত: ২০:২৩, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকার বায়ু, কমাচ্ছে আয়ু!
দিবসটি আমাদের প্রত্যেককে বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি সুযোগ করে দিয়েছে।

বায়ুদূষণে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় প্রথম সারিতে ওঠে এসেছে বাংলাদেশ। গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রথম দিকে।  ঢাকা শহরটি বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর একটি। কারণ ঢাকার বাতাস সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৫ গুণের চেয়ে দূষিত। ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা রয়েছে প্রথম সারিতে!

তারপরও প্রশ্ন থাকে সরকার নির্মল বায়ু কতটুকু মানবিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে? কেননা জাতিসংঘ নির্মল বায়ু পাওয়ার অধিকারকে মানবিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে! কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষত রাজধানী ঢাকা শহরে নির্মল বায়ু কল্পনা করাও যেন কঠিন বরং বলা যেতে পারে- ঢাকার বায়ু, কমাচ্ছে আয়ু!

যানবাহন ও শিল্পকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, অনিয়মিত নির্মাণকাজের ধুলা, বর্জ্য পোড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশে বায়ুদূষণ বর্তমানে উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। এই দূষণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু, প্রবীণ, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

Advertisement

আজ ৭ সেপ্টেম্বর, ‘নির্মল বায়ু’র আন্তর্জাতিক দিবস।' বর্তমান বিশ্বে বায়ুদূষণের মারাত্মক অবস্থা ও এর থেকে আশু উত্তরণের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘ ‘নীলাকাশের জন্য নির্মল বায়ু’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক দিবস নির্ধারিত করে। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি বছর ৭ সেপ্টেম্বর পৃথিবীব্যাপী উক্ত দিবস প্রতিপালিত হবে এবং ইউনাইটেড ন্যাশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউনেপ) প্রতি বছর দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। 

গবেষণা বলছে, এককভাবে বায়ুদূষণই মানব স্বাস্থ্যের জন্য বৃহত্তম পরিবেশগত ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি, এটি বিশ্বব্যাপী অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ও রোগেরও অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণ বর্তমান বিশ্বে প্রথম পাঁচটি মৃত্যুকারণের একটি। সারাবিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ বায়ুদূষণের কারণে অকাল মৃত্যুবরণ করে। যা অন্য যেকোনো পরিবেশগত দূষণে সংঘটিত মৃত্যু সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি!


নির্মল বায়ুর মানবিক অধিকার!

নির্মল বায়ুর অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা যাবে না। বায়ুদূষণ মোকাবিলায় এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিবে। ২০১৯ সালে, মানবাধিকার পরিষদের ৪০তম অধিবেশনের একটি প্রতিবেদনে নির্মল বায়ুতে শ্বাস নেওয়ার অধিকারের উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়। মানবাধিকার ও পরিবেশ বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির তৈরি একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। নির্মল বায়ুতে শ্বাস নেওয়ার অধিকার পূরণের জন্য রাষ্ট্রগুলোকে যে সাতটি পদক্ষেপ অবশ্যই বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে, তার উপর প্রতিবেদনটিতে জোর দেয়া হয়।

আমাদের করণীয় :
দিবসটি আমাদের প্রত্যেককে বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা যা করতে পারি-

- সাইকেল চালিয়ে কাজে যাওয়া 
- অজৈব আবর্জনা পুনর্ব্যবহার করা
- আমাদের শহরগুলোর শ্যামলিমা উন্নয়নের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে চাপ দেওয়া
- অকারণে বাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি চালু না রাখা
- বাড়ির বিভিন্ন সরঞ্জামাদির (যেমন: রান্নার চুলা) কর্মদক্ষতা যাচাই করে নেয়ার ক্ষেত্রে এমন নকশা বেছে নেয়া উচিত, যা অর্থ সাশ্রয় ও স্বাস্থ্য রক্ষা করে;
- কখনোই বর্জ্য না পোড়ানো, কারণ এটি বায়ু দূষণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!