বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা'র সাথে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি'র লর্ড ক্লাইভের সাথে যুদ্ধের সময়, সিরাজউদ্দৌলা'র সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেন। এই সূত্রে যে কোন বিশ্বাস ঘাতককে বাংলা ভাষায় 'মীরজাফর' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বাংলার ইতিহাসে চরম বিতর্কিত ও বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত নবাব মীর জাফর আলী খান ১৭৬৫ সালের ১৭ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না জীবনের শেষ সময়টায় তিনি শারীরিক যন্ত্রণা ও তীব্র মানসিক গ্লানিতে ভুগেছিলেন। হ্যাঁ মীর জাফর আলী খান জীবনের শেষ সময়টায় তিনি শারীরিক যন্ত্রণা ও তীব্র মানসিক গ্লানিতে ভুগেছিলেন।
.png)
কষ্ঠরোগ ও কুষ্ঠব্যাধি:
জীবনের শেষভাগে মীর জাফর অত্যন্ত জটিল ও যন্ত্রণাদায়ক রোগে আক্রান্ত হন। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, তিনি মারাত্মক কুষ্ঠরোগে (Lepersy) ভুগছিলেন। পচন ধরে শরীরের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হতে শুরু করেছিল, যা তাকে চরম শারীরিক কষ্ট দেয়।
মানসিক যন্ত্রণার গ্রাস: সিপাহসালার হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার পর তিনি ব্রিটিশদের হাতে পুতুল নবাব হিসেবে বসলেও কখনো শান্তিতে রাজ্য শাসন করতে পারেননি। একদিকে ইংরেজদের সীমাহীন অর্থের দাবি, অন্যদিকে জনসাধারণের ঘৃণা ও অপমান তাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলেছিল।
কিরীটেশ্বরী দেবীর চরণামৃতের গল্প:
লোকমুখে ও ঐতিহাসিক লোকগাঁথায় প্রচলিত আছে যে, মৃত্যুর পূর্বে শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এবং রোগের উপশমের আশায় মীর জাফর মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত 'কিরীটেশ্বরী মন্দির' থেকে চরণামৃত (দেবীর পায়ের জল) আনিয়ে পান করেছিলেন। তবে এতেও তার শেষ রক্ষা হয়নি।
পরিণতি
মৃত্যুর পর তাকে মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত জাফরাগঞ্জ কবরস্থানে (যা পরবর্তীতে 'জাফরাগঞ্জ গোরস্থান' বা মীর জাফরের পরিবারের কবরস্থান হিসেবে পরিচিতি পায়) দাফন করা হয়। চরম ক্ষমতা ও বিপুল ধন-সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি লোকচক্ষে কেবল ঘৃণাই কুড়িয়েছেন এবং এক যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে করুণ মৃত্যুবরণ করেছেন।