ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ করোনাভাইরাস ]

যবিপ্রবিতে ৩৫ নমুনায় ওমিক্রন শনাক্ত

যশোর প্রতিনিধি  
প্রকাশিত: ১৯:১৬, ২৩ জানুয়ারি ২০২২
যবিপ্রবিতে ৩৫ নমুনায় ওমিক্রন শনাক্ত
যবিপ্রবি’র জিনোম সেন্টার

স্যাঙ্গার সিকুয়েন্সিং-এর মাধ্যমে আবারো ৩৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত করা হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ৩৫ জনের নমুনায় ওমিক্রন শনাক্ত করেন। শনাক্তকৃতরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের ঠান্ডা, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, হালকা জ্বর ছাড়া গুরুতর উপসর্গ নেই।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা শনাক্তের বিষয়টি প্রকাশ করেন। গবেষক দল গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪১ জনের নমুনার স্যাঙ্গার সিকুয়েন্সিং-এর মাধ্যমে ৩৫ জনের প্রাথমিকভাবে ওমিক্রন শনাক্ত করে। এরমধ্যে ২৬ জন পুরুষ ও ১৫ জন নারী রয়েছেন। বাকিগুলো ডেল্টা ধরন বলে শনাক্ত করা হয়। 

এদিকে গত ১২ জানুয়ারি জিনোম সেন্টারে প্রথম তিনজনের নমুনার পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে ওমিক্রন শনাক্ত করা হয়। এ নিয়ে যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে মোট ৩৮ জনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত করা হলো।   

Advertisement

যবিপ্রবির গবেষকরা জানান, জিনোম সেন্টারে ৩৮ জনের নমুনার মধ্যে আগেইই ৩টি নমুনার পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য (হোল জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করা হয়েছিল। বাকি ৩৫ জনের স্পাইক প্রোটিনের স্যাঙ্গার সিকুয়েন্সিং-এর মাধ্যমে ১২ থেকে ১৩টি মিউটেশনের উপর ভিত্তি করে ওমিক্রন শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বয়স ২০ থেকে ৭১ বছরের মধ্যে।

যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে করোনার নতুন এ ধরন শনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, যদিও শনাক্তের বিচারে আক্রান্তদের এখনো গুরুতর উপসর্গ নেই। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে উদ্বেগের ধরন বলে আখ্যায়িত করেছে।

গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন- বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসান মো. আল-ইমরান, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শোভন লাল সরকার, এএসএম রুবাইয়াতুল আলম, প্রভাষক শামিনুর রহমান, জিনোম সেন্টারের গবেষণা সহকারী প্রশান্ত কুমার দাস, আলী আহসান সেতু, তৌকির আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল তারিক, আনজীর রুমি, নাজনীন সুলতানা সুমনা প্রমুখ।

করোনার নতুন এ ধরনটি শনাক্তের বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ওমিক্রন অতিদ্রুত সংক্রমণশীল। এ কারণে যশোর অঞ্চলে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ৩০ শতাংশের অধিক নমুনা পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্তের কাজটি জিনোম সেন্টারে অব্যাহত থাকবে। আশপাশের জেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে নমুনা পাঠালে তাদেরও করোনার ধরন শনাক্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, আগে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনটির স্থানীয় সংক্রমণের বিষয়টিও যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে শনাক্ত করা হয়। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!