গত তিন বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে পান চাষের চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন কৃষক আতাউর। অবশেষে এ বছর সফলতার দেখা পেলেন তিনি। সিরাজগঞ্জে পান চাষ নতুন হওয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে কৃষকদের মাঝে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে কৃষক আতাউর রাজশাহীতে বেড়াতে গিয়ে সেখানে পানের আবাদ দেখে অনুপ্রাণিত হন। রাজশাহী থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকায় ৪ হাজার পানের চারা কিনে এনে ১০ শতাংশ জমিতে পানের বরজ তৈরি করেন। পর পর দুই বার বেশির ভাগ চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। পরে বন্ধুদের সহযোগিতায় আবারো শুরু করেন। নানা চেষ্টার পর অবশেষে সফল হয়েছেন তিনি।
.png)
খরচ দ্বিগুণ হলেও বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় লাভের আশা করছেন আতাউর। এরই মধ্যে তার বরজের পান পাতা বড় হয়েছে। বিক্রিও শুরু করেছেন।
কৃষক আতাউর জানান, দুই বার ক্ষতির পরেও ১০ শতাংশ জমিতে পান চাষে তার মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকার মতো। এরই মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার টাকার পান বিক্রি করেছেন। প্রতি সপ্তাহে ৩ হাজার টাকার পান বিক্রি করছেন।
তিনি আরো জানান, পান চাষের নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে পান গাছের লতা বাড়তি হলে আবার সে লতাগুলো মাটিতে ঢেকে দিতে হয় এখন সেই প্রস্তুতি চলছে। এ বাগান থেকে প্রতি বছর দেড় ১ লাখ টাকার পান বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, পান অর্থকড়ি ফসল হলেও এতদিন এর চাষাবাদ সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না অনেক কৃষকের। কিন্তু আতাউরের সাফল্যের পর এলাকার কৃষকরা পান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রুস্তম আলী জানান, উপজেলায় পান চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নানা ফসল বৈচিত্রে ভরপুর সিরাজগঞ্জে কৃষক আতাউরের হাত ধরে অন্যান্য কৃষকদের মাঝে পান চাষ সম্প্রসারিত হোক। পান চাষে উদ্যোগী চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।