বাসার বাইরের অংশের দৃশ্য ধারণের জন্য লাগানো ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ১টা ৪৭ মিনিটে পিপিই দিয়ে মুখ ও সারা শরীর ঢাকা এক দুর্বৃত্ত বাসার পেছনের অংশ দিয়ে কাঁধে মই নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। প্রায় পাঁচ মিনিট পর রাত ১টা ৫২ মিনিটে আবার মই কাঁধে নিয়ে তাকে বের হয়ে যেতে দেখা গেছে।
বাসার ভেতরে অংশের দৃশ্য ধারণের জন্য লাগানো ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ২টা ২ মিনিটে শুধু মাস্ক পরা এক দুর্বৃত্ত বাইরে থেকে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে ভেতরে প্রবেশ করছে। এক মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ওই ফুটেজের মাঝপথে থেকে সে একবার ক্যামেরার দিকে তাকায় এরপর মাস্ক দিয়ে নিজের মুখ ভালোভাবে ঢেকে ভেতরে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ির বারান্দায় ওই দুর্বৃত্তের নড়াচড়ার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
.png)
ঘোড়াঘাটের ওসমানীনগরে অবস্থিত ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাসার পেছনের অংশ বেশ সুনসান। বাসা থেকে তার কার্যালয় ও থানার দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। স্থানীয়দের ধারণা, এসব সুবিধা মাথায় নিয়েই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে দুই দুর্বৃত্ত। ওই সময় বাসার নৈশপ্রহরীকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ইউএনওকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাতুড়ির আঘাতে ওয়াহিদা খানমের মাথার খুলি ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেছে। এতে তার ডান হাত ও পা অচল হয়ে পড়েছে। রাতেই তার অপারেশন করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হলেও এখনো পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নন ইউএনও। এদিকে, একই ঘটনায় আহত তার বাবা ওমর আলীর শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।