ইউএনওর ওপর হামলায় তিনজনের দায় স্বীকার
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে বাসায় ঢুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে তিনজন দায় স্বীকার করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে রংপুরে র্যাব-১৩ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৩ এর অপারেশন কমান্ডার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, গ্রেফতার আসাদুল, জাহাঙ্গীর ও মাসুদ হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
.png)
এদিকে ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শুক্রবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশ। মূল হোতা আসাদুল হককে ভোর সাড়ে চারটায় হিলি সীমান্তের চুড়িপট্টি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলমকে সাগরপুর থেকে ও মাসুদ রানাকে ঘোড়াঘাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতার করা হয় ঘোড়াঘাটের রংমিস্ত্রী নবীরুল ইসলামকে। তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি হাতুড়ি উদ্ধার করেছে র্যাব। এর আগে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাড়ির নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। শুক্রবার তাকেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বুধবার রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে দুই দুর্বৃত্ত। ওই সময় বাসার নৈশপ্রহরীকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ইউএনওকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাতুড়ির আঘাতে ওয়াহিদা খানমের মাথার খুলি ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেছে। এতে তার ডান হাত ও পা অচল হয়ে পড়েছে।