ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ইউএনওকে আঘাত করেন নবীরুল, চুরির উদ্দেশ্যেই হামলা

র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলন
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫২, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
ইউএনওকে আঘাত করেন নবীরুল, চুরির উদ্দেশ্যেই হামলা
হামলাকারী নবীরুল ইসলাম, ইনসেটে ইউএনও ওয়াহিদা খানম

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছেন গ্রেফতার রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম। মূলত চুরির উদ্দেশ্যেই ওই বাসায় ঢুকেছিলেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১৩ এর কামান্ডিং অফিসার রেজা আহমেদ ফেরদৌস।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ঘোড়াঘাটের ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় মামলার পর থেকে র‌্যাব ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে আসাদুলকে শুক্রবার ভোরে হিলির কালীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার দিনভর অভিযান চালিয়ে রং-মিস্ত্রি নবীরুল ও সান্টুকে গ্রেফতার করা হয়।  তারা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছিল। প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অল্প সময়ের শনাক্ত করতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

Advertisement

রেজা আহমেদ ফেরদৌস আরো জানান, গ্রেফতার আসাদুল হক স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে- তারা চুরির উদ্দেশ্যে ওয়াহিদা খানমের বাসায় প্রবেশ করে। এরপর নবীরুল বাসার ভেতরে ঢুকে ওয়াহিদা খানমের মাথায় আঘাত করে। ঘটনার নেপথ্যে আরো কারণ আছে কিনা তা জানতে গ্রেফতারদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ হবে।

সংবাদ সম্মেলন করছেন র‍্যাব-১৩ এর কমান্ডিং অফিসার রেজা আহমেদ ফেরদৌস। পরে দুই আসামি নবীরুল ও আসাদুলকে হাজির করা হয়।

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় র‌্যাব জিজ্ঞাসাদাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে র‌্যাব-১৩ এর কামান্ডিং অফিসার বলেন, আমরা প্রয়োজনে আরো অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসতে পারি।

বুধবার রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে দুই দুর্বৃত্ত। ওই সময় বাসার নৈশপ্রহরীকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ইউএনওকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাতুড়ির আঘাতে ওয়াহিদা খানমের মাথার খুলি ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেছে। এতে তার ডান হাত ও পা অচল হয়ে পড়েছে। রাতেই তার অপারেশন করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হলেও এখনো পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নন ইউএনও। এদিকে, একই ঘটনায় আহত তার বাবা ওমর আলীর শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!