ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ট্রাকচালকের মানবতায় বনে ফিরল বিরল লজ্জাবতী বানর

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:১৭, ৬ মার্চ ২০২১
ট্রাকচালকের মানবতায় বনে ফিরল বিরল লজ্জাবতী বানর
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খাদ্যের সন্ধানে বন ছেড়ে লোকালয়ে এসে তারা পথ হারিয়ে ফেলেছে। তাই নিজেকে বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্ধকারের মাঝে লুকিয়ে ছিলো। কিন্তু তাতেও যেন শেষ রক্ষা হল না অল্পের জন্য ট্রাকের নিচে পিষ্ট হওয়া থেকে বাঁচল বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর।

শুক্রবার ভোরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর সোমেশ্বরী নদীর বালুচর থেকে বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটিকে উদ্ধার করে মিঠুন মিয়া নামে স্থানীয় এক যুবক। উদ্ধারের পর তার বাড়িতে না নিয়ে প্রাণীটিকে সযত্নে বড় একটি ড্রামের ভেতর রাখেন‌। ড্রামে যেন আরামে থাকতে পারে তার জন্য পুরনো বেশকিছু কাপড় জমা করেন তিনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তার বাসায় ছিল প্রাণীটি । এর মাঝেই প্রাণীটি খাওয়ার জন্য দিয়েছেন কলা, আপেলসহ বিভিন্ন রকম খাবার।

এদিকে প্রাণীটি উদ্ধারের খবর শুনে অনেকেই মিঠুনের বাড়িতে ভিড় জমান। ছোট বড় সবাই বিরল প্রজাতির বানরটিকে এক নজর দেখতে তার বাড়িতে ছুটে যায়। তবে বিকেলে প্রাণীটি উদ্ধারের খবরটি ডেইলি বাংলাদেশের নেত্রকোনা প্রতিনিধি রিফাত আহমেদ রাসেল প্রশাসনকে জানালে এই বিষয়টি তাদের নজর আসে। সন্ধ্যায় পুলিশ গিয়ে ওই যুবকের বাড়ি থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে ।

Advertisement

রাতে ইউএনও রাজিব উল আহসান প্রাণীটিকে উপজেলা বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে অবমুক্ত করা জন্য হস্তান্তর করে। পরে রাতেই উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘন জঙ্গলে প্রাণীটিকে অবমুক্ত করা হয় ।

মিঠুন মিয়া ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, সোমেশ্বরী নদী থেকে ট্রাকে বালু নিয়ে আসার পথে গাড়ির সামনে হঠাৎ প্রাণীটিকে দেখতে পাই। প্রথম ভেবেছি গাড়ির নিচে পড়েই হয়তো প্রাণীটি মারা গেছে পরে গাড়ি থেকে নেমে দেখি অল্পের জন্য বানরটির কিছু হয়নি। পরে বানরটিকে উদ্ধার করে আমি বাড়িতে নিয়ে আসি। 

অনেকেই বাড়িতে আসছেন প্রাণীটিকে দেখতে। আমিও সঠিক ভাবে প্রাণীটির নাম জানিনা তবে অনেকে বলছেন এটি লজ্জাবতী বানর। এটা খুবই শান্ত প্রকৃতির একটি প্রাণী আমি এটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় কোনো প্রকার আক্রমণ কিংবা সমস্যা করেনি। সন্ধ্যায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাড়ি থেকে প্রাণী নিয়ে গেছেন অবমুক্ত করার জন্য এতেই আমি খুশি। আমি মূলত প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্যই উদ্ধার করছি। আমি যদি উদ্ধার না করতাম হয়তো অন্য গাড়ির নিচে পড়ে প্রাণীটির মৃত্যু হতো ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের ভেটেনারি সার্জন ডা. মো. মাহবুবুল আলম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, প্রাণীটি সুস্থ রয়েছে। তবে অনেক মানুষ দেখে এখন কিছুটা ভীত-সন্ত্রস্ত। মূলত এই প্রাণীগুলো জঙ্গলে বেশি থাকে। যেহেতু এই উপজেলার সোমেশ্বরী নদী একটি পাহাড়ি নদী হয়তো এই নদীতে পানি খেতে এসেই পানির স্রোতের ভেসে চলে আসছে। এটা খুবই শান্ত প্রকৃতির প্রাণী। এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে এই প্রাণীগুলো। তাই সচরাচর তেমন একটা দেখা মিলে না। আমরা বানরটিকে ঘন জঙ্গলে অবমুক্ত করেছি যেন তার আগের অবস্থানে ফিরতে পারে।

ইউএনও রাজিব উল আহসান ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, প্রাণীটি উদ্ধারের খবর পাওয়া মাত্রই আমরা উপজেলা বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ দফতরের কর্মকর্তাদের খবর দিয়েছি এবং তাদের হাতেই বিরল এই প্রাণীটিকে তুলে দিয়েছি তারা যেনো এটিকে বনে অবমুক্ত করে। এরইমধ্যে প্রাণীটি অবমুক্ত হয়েছে। আমরা আশা করি সে তার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!