ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ছয় বছর বয়সী শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৫:২০, ২০ মার্চ ২০২১
ছয় বছর বয়সী শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা
ছবি: প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখছেন পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা

বগুড়ায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মঞ্জু মিয়া নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

শুক্রবার সকালে গাবতলি উপজেলাকে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মঞ্জু গাবতলি উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার আব্দুর জব্বার প্রামাণিক।

নিহত শিশু হানজালাল একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী পিন্টু প্রামানিকের ছেলে।

Advertisement

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় হানজালাল। ঘটনার রাতেই তার মা তাসলিমা বেগম গাবতলি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর কিছুদিন পর থেকে তাসলিমার মুঠোফোনে ফোন আসা শুরু করে।

তাসলিমাকে মুঠোফোনে বলা হয় ‘তার ছেলেকে ফিরে পেতে হলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে’। এরপর আবারো টাকা চাওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময়ে টাকার পরিমাণ কমিয়ে দাবি করা হয় তিন লাখ।

ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে শুনে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন পিন্টু প্রামাণিক।

পরে থানায় গিয়ে অপহরণকারীর মুঠোফোন নম্বর পুলিশকে দেন তিনি ও তার স্ত্রী। কিন্তু পুলিশ এ ঘটনার কোনো হদিসই পাচ্ছিল না ওই সময়। অবশেষে অপহরণের ৩৮দিন পর হানজালালের লাশ উদ্ধার করে করা হয়।

তাও অপহরণকারীর ফোনেই। অপহরণকারী মুঠোফোনে হানজালালের মাকে তার ছেলের মরদেহের সন্ধান দেন। সেই তথ্যে হানজালালের বাড়ির পাশের পুকুর থেকেই তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের বর্ণনায় যা ঘটেছিল হানজালালের সঙ্গে

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে উপজেলার নিশুপাড়া বাজারে নিজের ওষুধের দোকানেই ইয়াবা সেবন করছিলেন মঞ্জু মিয়া। ওই সময় ৬ বছরের শিশু হানজালাল তার দোকানের সামনে চলে আসে। কৌশলে তাকে দোকানের ভিতর ডেকে নেন মঞ্জু। শিশুটির হাতে দেন তার মুঠোফোন। ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিল শিশু হানজালাল। ঠিক তখনি ফার্মেসির সাটার লাগিয়ে দেন মঞ্জু।

দোকানের সাটার লাগিয়ে দিয়ে হানজালালের সামনে ইয়াবা সেবন করা শুরু করেন মঞ্জু। ঠিক এ সময় তার মাথায় আসে মুক্তিপণ আদায়ের চিন্তা। অনেক আগে থেকেই তার এ পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পাচ্ছিলেন না সুযোগ।

পরিকল্পনা মোতাবেক হানজালালের মুখে স্কচস্টেপ লাগানোর চেষ্টা করেন মঞ্জু। ওই সময় হানজালাল চিৎকার ও ছুটাছুটি শুরু করে। মঞ্জু তখন হানজালালের গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে লাশটি পলিথিনে মুড়িয়ে দোকানে রেখেই বাড়িতে চলে যান মঞ্জু। বাড়ি থেকে প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে আবারো ফিরে আসেন দোকানে। তিনটি ইটসহ লাশটি ওই বস্তায় ভরে পুকুরে লুকিয়ে রাখেন।

এ ঘটনার কয়েকদিন পর মঞ্জু বগুড়া শহরে আসেন। শহরের পৌর পার্কের সামনে এক ভিক্ষুককে দেখে নতুন পরিকল্পনা শুরু করেন। ভিক্ষুককে কাছে ডেকে দশ টাকা ভিক্ষা দেন। ওই ভিক্ষুক ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। এ সুযোগে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেন মঞ্জু। কিন্তু শর্ত দেন তার ভোটার আইডিকার্ড ও আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে তাকে একটি সিমকার্ড তুলে দিতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মঞ্জু ওই ভিক্ষুকের ভোটার আইডি কার্ড ও আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করে একটি গ্রামীন সিমকার্ড কিনেন। এরপর কিনেন নতুন একটি মুঠোফোন। শুরু করেন হানজালালের মায়ের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা। নিজেকে অপহরণ চক্রের সদস্য পরিচয় দিয়ে হানজালালের মায়ের কাছ থেকে প্রথমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মঞ্জু। পরে টাকার পরিমাণ দেন কমিয়ে।

মাদক সেবনের টাকা সংগ্রহ করতে ও অর্থের লোভে মঞ্জু শিশু হানজালালকে অপহরণ ও হত্যা করে মুক্তিপণ দাবি করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মঞ্জু শিশু হানজালালকে অপহরণ, হত্যা, গুম ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!