হত্যার পর মায়ের লাশে আগুন দিয়ে রাতভর পাশে বসেছিল ছেলে
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বৃদ্ধা মাকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেয় ছেলে। এ ঘটনায় ঘাতক মিলন হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আশারকোটা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মিলনকে আটক করা হয়।
নিহতের নাম আমেনা বেগম। ৫৭ বছর বয়সী আমেনা আশারকোটা গ্রামের ওয়াহেদ আলী পাটওয়ারী বাড়ির আকবর হোসেনের স্ত্রী। আটক ২৬ বছর বয়সী মিলন তাদের ছোট ছেলে।
পুলিশ জানায়, দুই বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন মিলন। দুবার তাকে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে তাকে ঢাকা থেকে চিকিৎসা করিয়ে আনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে নানার বাড়ি থেকে আসেন মিলন। রাতের কোনো এক সময়ে মাকে কুপিয়ে শরীরের আগুন লাগিয়ে দেন তিনি।
পরে ফজরের আজানের সময় ঘর থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এরপর তারা ঘরে ঢুকে দেখেন আমেনার পা ও শরীরের কিছু হাড় ছাড়া বাকি অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরে পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ঘটনাটি খুবই ভয়াবহ। কখন কী জন্য ঘটনাটি ঘটেছে, তা বলা যাচ্ছে না। মিলন আগে সুস্থ ছিলেন। দুই বছর ধরে তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত। রোগের কারণেই হয়তো বৃদ্ধা মাকে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলেছেন।
তিনি আরো বলেন, মিলনের বাবা প্রবাসী ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে বিদেশেই তিনি মারা যান। মিলনের আরো দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন প্রবাসী ও আরেকজন ঢাকায় চাকরি করেন।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে বৃদ্ধের ছেলেকে আটক করা হয়েছে। শুনেছি তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।