ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্ত্রীর ‘প্রতারণা’য় চোখের পানি ফেলছেন অসহায় স্বামী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৫৯, ৮ মার্চ ২০২২
স্ত্রীর ‘প্রতারণা’য় চোখের পানি ফেলছেন অসহায় স্বামী
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের দুই বছরের মাথায় ঘর থেকে সবকিছু নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায় স্ত্রী সালমা আক্তার। স্বামী আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে করা হয় যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা। মামলা তুলে নিতে বাবার বাড়িতে ঘর নির্মাণ ও সংসারের খরচ চালানোর শর্ত দেয় সালমা। এতে রাজি হন স্বামী আলমগীর। কিন্তু গোপনে সালমা আরেকজনকে বিয়ে করেছে।

সম্প্রতি পঞ্চগড়ে স্ত্রীর প্রতারণায় নাজেহাল স্বামী আলমগীর হোসেন পঞ্চপড় প্রেস ক্লাবে লিখিতভাবে এসব অভিযোগ করেছেন। তিনি সেখানে তার বিব্রতকর অবস্থা ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার রণচী সরকারপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন পারিবারিকভাবেই পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঠুটাপাখুরী এলাকার সালমা আক্তারকে (২৮) বিয়ে করেন। এটি ছিল দু'জনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। ২০১৭ সালে হঠাৎই সালমা সব কিছু নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। সেখানে গিয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে  করে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা। ২০১৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি বাড়ি করে দেওয়ার শর্তে মামলাটি আপসের জন্য অ্যাফিডেভিট করে সালমা। সেখানে স্বামীর সঙ্গে আগের মতো সংসার কথার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

Advertisement

এ সমঝোতার পর আলমগীর প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে সালমার বাবার বাড়িতে একটি আধাপাকা বাড়ি করে দেন। একই সঙ্গে তাদের সব ধরনের খরচ বহন করতেন তিনি। এদিকে বাড়ি নির্মিত হওয়ার পর গোপনে মাহমুদুল হাসান নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে সালমা।

সালমার প্রতিবেশি রফিকুল ইসলাম বলেন, আলমগীর শুধু সালমার নয়, আগের স্বামীর দুই সন্তানেরও খরচ বহন করতো। বাড়িটিও তিনি নির্মাণ করে দিয়েছেন। সমঝোতার পরও সালমা অন্যত্র বিয়ে করেছেন বলে আমরা জেনেছি।

আলমগীর হোসেন বলেন, আমি কেবল মেয়ের জন্য তার নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছি। সে যখন যেমনটা বলেছে তেমনটিই করেছি। তারপরও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। মামলা আপসের জন্য অ্যাফিডেভিট করার পরও সে গোপনে অন্যত্র বিয়ে করেছে। একটি নয়, আমরা জেনেছি দুই ব্যক্তিকে বিয়ে করেছে। তবে কৌশলগত কারণে সে রেজিস্ট্রি না করে কেবল মাওলানা দিয়ে বিয়ে করেছে। একজনের বিয়ের প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে। সে আদালতে আমার সঙ্গে সংসার করার কথা বলছে আর ভেতরে অন্যত্র বিয়ে করেছে। এমন নারীর সঙ্গে সংসার করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তার প্রতারণায় আমি নাজেহাল হয়ে গেছি। আমি তার কাছ থেকে মুক্তি চাই।

এ ব্যাপারে সালমা আক্তার জানিয়েছনে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতেই কথা বলবো। আলমগীর আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন করেছে। আমি বিয়ে করেছি কিনা সেটা আলমগীর আদালতে প্রমাণ করুক। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বলেন, আমি জানি সালমা বিয়ে করেছে। তবে মুন্সির মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!