ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গাড়ি চুরি করে ১২ টুকরা, চক্রের দুই সদস্য আটক

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৪২, ২৩ এপ্রিল ২০২২
গাড়ি চুরি করে ১২ টুকরা, চক্রের দুই সদস্য আটক
চুরি হওয়া গাড়ির উদ্ধারকৃত বিভিন্ন অংশ- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

৪২ লাখ টাকা দিয়ে নতুন হাইএস গাড়ি কিনেছিলেন কুমিল্লার নিশ্চিন্তপুরের আনু মিয়ার ছেলে কামাল হোসেন। বন্দর থেকে গাড়িটি আনার পর গত ১৪ এপ্রিল প্রথম ভাড়া ঠিক করেন কামাল হোসেনের ভাই গাড়িচালক মনির হোসেন।

সেদিন বিকেলে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও মাইক্রো স্টান্ডে এসে তিন ব্যক্তি ঢাকায় যাবেন বলে গাড়িটি ভাড়া করে। এরপর রওনা হয়ে মুন্সিগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে আরেক ব্যক্তিকে গাড়িতে তোলে যাত্রীরা। রাতের এক পর্যায়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকে। রাত গভীর হলে চালককে গাড়ি থামাতে বলে।

এক পর্যায়ে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার নির্জন জায়গায় চালক কামাল হেসেনকে পেছনের সিটে নিয়ে মারধর করে অচেতন করে হাত-পা বেঁধে ফেলে দেয় যাত্রীবেশী তিনজন। মৃত ভেবে সেখানে কলাপাতা দিয়ে আবর্জনার স্তুপে ঢেকে গাড়িটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয় কয়েকজন ময়লার স্তুপে কামালকে দেখতে পেয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুটা সুস্থ হলে বাড়ির লোকজনকে বিস্তারিত জানালে তারা ঢাকায় হাসপাতাল থেকে তাকে কুমিল্লায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

Advertisement

কোতোয়ালি থানায় মামলা হলে পুলিশের একটি টিম মাঠে নামে। কুমিল্লা থেকে ঢাকার সড়কের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৯ এপ্রিল চক্রের অন্যতম সদস্য অনিক সূত্রধর প্রকাশ আবিরকে আটক করা হয় নারায়ণগঞ্জ থেকে। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে, চক্রের আরেক সদস্য মুন্সিগঞ্জ লৌহজং থানা এলাকা থেকে সেলিম হাওলাদারকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িটির সন্ধান জানায় তারা। পরে লৌহজং থানার একটি অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতর থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। তবে ৪২ লাখ টাকায় কেনা নতুন গাড়িটি তখন চেনার উপায় নেই। ১০-১২ টুকরো করা হয়েছে গাড়িটিকে মূল্যবান কিছু মালামাল খুলে খুলে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গাড়ি উদ্ধার হলেও বিক্রি করা কয়েকটি অংশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

২০ এপ্রিল সকালে আসামিসহ ছিনতাইকৃত গাড়িটি কুমিল্লায় আনা হয়। চক্রের দুই সদস্য আটক হলেও মূল হোতা নারায়ণগঞ্জের ফাহিম প্রকাশ রিপন ও মুন্সিগঞ্জের জাহাঙ্গীর নামে অপর দুই সদস্য পলাতক। গাড়িটি উদ্ধার করে নিয়ে আসার পর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সব অপরাধ স্বীকার করে অনিক ও সেলিম হাওলাদার।

নাজিরা বাজার পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মুহিবুল্লাহ জানান, অভিযোগ পেয়ে কুমিল্লা ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় টানা পাঁচদিন অভিযান চালানো হয়। অপরাধীদের শনাক্ত করার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুইজনেকে আটক করা হয়। সংঘবদ্ধ গাড়িচোর চক্রের এ সদস্যরা কৌশলে গাড়ি ভাড়া নিয়ে ছিনতাই করে। আটককৃতরা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!