খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ গাছ থেকে মুকুল ঝরে যায়। এছাড়া তীব্র দাপদাহের কারণে আমের সাইজও ছোট হয়েছে।
আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, লোকসানের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই এ বছর আম নামানো শুরু করেছেন তারা। বিগত বছরগুলোতে যে বাগানে ১০০ মণ আম হতো এ বছর সেখানে মাত্র ২০ মণ আম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
.png)
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, জেলায় দুই হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে ল্যাংড়া, হিমসাগর, আম্রপালি, বোম্বাই বিশ্বনাথ, ফজলি মল্লিকা ও বারি আম-৪ জাতের আমের বাগান আছে। হেক্টর প্রতি ফলন ধরা হয়েেছ ১২ দশমকি ৫০ টন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৯ হাজার টন। উৎপাদিত আম জেলার চাহিদা মিটিয়ে ৭০ ভাগ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম জানান, এ বছর শীতের অনেক পরে বাগানে আমের মুকুল আসে। গুটি আসার পর পরই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক বাগানের আমের গুটি আগেই ঝরে গেছে। পরে অতিরিক্ত রোদের কারণে আমের সাইজ ছোট হয়েছে। এরপরও বাজারে আমের দাম ও চাহিদা ভালো রয়েছে। চাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বেন না।
তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার হিমসাগর আম নামানো শুরু হলেও বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই জেলায় গুটি জাতের আম সংগ্রহ করে বাজারজাত করছেন ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা। এ বছর ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে আম রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে আম কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা কৃষি অফিসের মাধ্যমে আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খান জানান, কেমিক্যাল দিয়ে কেউ যেন আম পাকিয়ে বিক্রি করতে না পারেন সেজন্য আম নামানোর সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করা হয়েছে।