রোববার রাত ১০টার দিকে পৌর শহরের গাবেরগ্রাম তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সোমবার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে মাদারগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদারগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার বলেন, নিহত শাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
.png)
ওই এলাকার সাজ্জাত তালুকদারের ছেলে শাকিব। তার স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৫ মে পিকআপ ভ্যানের ব্যাটারি চুরির মিথ্যা অপবাদ দেন তারই আপন চাচা শাহজাদা তালুকদার। এ নিয়ে শাহজাদা তালুকদারের ভাতিজা নাকিব তালুকদার, নয়ন তালুকদার ও রাসেল তালুকদার তাকে পুলিশে দেওয়ার হুমকি ও থানায় মামলা হয়েছে বলে ভয়ভীতি দেখান। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে ২৬ মে বাড়ি ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ চলে যান। পরে কোনো কাজ না পেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। ফিরে আসার পর আবার তাকে নানান রকম হুমকি ও চুরির মিথ্যা অপবাদ দেন শাহজাদা তালুকদারের ঘনিষ্ঠ বালিজুড়ী নামাপাড়া এলাকার শাহীন নামের এক ব্যক্তি। এতে অপমানিত ও ভয় পেয়ে পাশের ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন শাকিব। পরে পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শাকিবের মা ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘ব্যাটারি চুরির মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার ছেলেকে ভয়ভীতি দেখায়। বলে থানায় নাকি অভিযোগ করছে, পুলিশ নাকি যে কোনো সময় তাকে ধরবে। চুরির মিথ্যা অপবাদ ও পুলিশে ধরার ভয়ে সে দুনিয়া থেকে চলে গেল। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শাকিবের বোন সাদিয়া তালকুদার বলেন, ‘অভিযুক্তরা আগে থেকেই আমাদের ওপর অত্যাচার করতো। হাসপাতাল থেকে আমার ভাইয়ের লাশ বাড়িতে নিয়ে এসে দেখি রাসেল তালুকদার ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনরা আমার মা ও বোনকে মারধর করেছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমার ভাইয়ের ওপর মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিছে। এ ঘটনায় আমরা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আরশেদ আলী বলেন, নিহতের পরিবার যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।