গরিব বলে ভাঙলো বিয়ে, অতঃপর...
বরগুনার আমতলীতে পরিবার গরিব হওয়ার অজুহাতে বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় এক কলেজছাত্রী বিষ পান করেছে। এর পাঁচদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শনিবার সকালে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়। সে আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের বাচ্চু মোল্লার মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আমতলীর আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের মেখলেছুর হাওলাদারের ছেলে সুজন হাওলাদারের সঙ্গে দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল ওই কলেজছাত্রীর। এরপর বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের তারিখ ঠিক হয়। গত ১০ জুন তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়ের পরিবার গরিব-দরিদ্র হওয়ায় হঠাৎ পাত্র সুজনের খালা বিয়েতে আপত্তি করেন। এ কারণে বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর অভিমানে-অপমানে ১৩ জুন সকালে বিষ পান করে ঐ কলেজছাত্রী। এরপর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঐ দিন দুপুরে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শনিবার সকালে মারা যায় সে।
তামান্নার বাবা বাচ্চু মোল্লা বলেন, আমার মেয়েকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সব শেষ করে দিয়েছে সুজন। এই শুক্রবারের আগের শুক্রবার আমার মেয়ের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সুজনের খালা মাহফুজা আমাদের গরিব বলে এবং মেয়ের মা বিদেশে থাকে, এই অজুহাত দেখিয়ে বিয়ে ভেঙে দেয়। অভিমানে আমার মেয়ে বিষপান করে।
প্রেমিক সুজন হাওলাদার বলেন, শুক্রবার বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আমার পরিবারের সঙ্গে কথার মিল হয়নি। তাই বিয়ে হয়নি। তবে কী কারণে বিষ খেয়েছে, তা আমাদের জানা নেই।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।