শনিবার কাহারোলের পশুর হাটে দেখা গেছে, প্রায় দুই একর জায়গার ওপর বসেছে পশুর হাট। পশু নিয়ে সকালেই পৌছে যান বিক্রেতারা। ফলে শনিবার সকাল ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত পুরোদমে শুরু হয় পশু বেচাকেনা। কুরবানি উপলক্ষে পশুর উপস্থিতি একটু বেশি থাকে। পশুর হাটে বিক্রেতা ক্রেতাদের মাঝে চলে দর-কষাকষি। এই সময় পা রাখার জায়গা থাকে না পশু হাটে।
এদিকে, খানসামার পশুর হাটে দেখা গেছে ভারতীয় গরু। স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, প্রতি বছর কোরবানি উপলক্ষে এ হাটে দেশি গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরুও বিক্রি হয়। তবে এ ব্যাপারে নীরব হাট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন।
.png)
গরু বিক্রেতা খায়রুল আলম বলেন, আমি ৭টি গরু বিক্রি করতে এসেছি। ৬টি গরু এরমধ্যে বিক্রি করেছি। একটা গরু হাতে আছে, এটাইও বিক্রি হবে আশা করছি।
আরেক গরু বিক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, এ বছর গো-খাদ্যের দাম অনেক বেশি। তাই গরুর দামও একটু বেশি। দুটি গরু বিক্রি করার জন্য এসেছি। এখন পর্যন্ত একটিও বিক্রি করতে পারিনি। ফলে গরু দুটি ফেরত নিয়ে যেতে হতে পারে।
গরু ব্যবসায়ী আজম জানান, ৪টি গরু ক্রয় করে হাটে নিয়ে এসেছিলাম। ৩টি গরুর বিক্রি করেছি ও ১টি ফেরত নিয়ে যাচ্ছি। তবে ৩টি গরুতে ৬ হাজার টাকা লোকসান করে বিক্রি করতে হয়েছে।
আরেক গরু ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, আমি নোয়াখালী থেকে এসেছি। ৬টি গরু ক্রয় করেছি। আর ৪টি গরু ক্রয় করব। তবে গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম অনেক বেশি। শনিবার কাহারোল হাটে প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজনকে দেখা গেছে। তারা কোরবানির জন্য গাভি গরুর প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করছেন। কোনো গরু অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন।
হাট ইজারাদারের প্রতিনিধি দোলোয়ার হোসেন জানান, কাহারোল ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট। অনেক সুনাম রয়েছে এ হাটের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে গরু, মহিষ ও খাসি ক্রয় করতে আসেন। এই হাটে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, রংপুর ও জয়পুরহাটসহ আশপাশের জেলা থেকে বিক্রেতারা গরু বিক্রি করতে আসেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আমাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন। কোরবানির সময় ২০ হাজার গরু ও ছাগল বিক্রি হয়। এ হাটে প্রায় ৫০ কোটি টাকার অধিক লেনদেন হয়।