তবে চলমান এ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পণ্য খালাসে আমদানিকারকদের তাগিদ দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যথাসময়ে পণ্য খালাস না নিলে দেওয়া হচ্ছে চারগুণ বাড়তি ভাড়া আদায়ের হুঁশিয়ারি।
বুধবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম এসব তথ্য জানান।
.png)
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকবে পোশাক কারখানা। আগামী ১৭ জুলাই থেকে কারখানার চাকা পুরোদমে সচল হবে বলে জানিয়েছেন মালিকরা। আর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্যের অধিকাংশই পোশাক কারখানার কাঁচামাল। কারখানা বন্ধ থাকায় সেসব মালামাল খালাস নিচ্ছেন না মালিকরা। এর ফলেই বন্দরের ভেতর তৈরি হচ্ছে আমদানি করা পণ্যের জট। অন্যদিকে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় বহির্নোঙ্গর থেকে আমদানি পণ্যভর্তি জাহাজ খালাসের জন্য বন্দর জেটিতে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, বন্দরের জেটিতে থাকা আমদানি পণ্যের খালাস যথাসময়ে না হওয়ায় পণ্যজট তৈরি হয়েছে। আমরা আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। এর মধ্যে আমদানি করা পণ্য খালাসে উন্নতি দেখা না গেলে আগামী ২৫ জুলাই থেকে বন্দরের রেগুলেশনস ফর ওয়ার্কিং অফ চিটাগং পোর্ট (কার্গো এন্ড কনটেইনার), ২০০১ এর ১৬০ ধারা অনুযায়ী স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে চারগুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করা হবে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আমদানি করা পণ্য নিয়ে বহির্নোঙ্গরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ১০টি জাহাজ। এর মধ্যে ভিয়েতনাম, চায়না, পানামা, লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজে পোশাক কারখানার কাঁচামাল ছাড়াও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রয়েছে।
এদিকে, বন্দর থেকে দ্রুত আমদানি পণ্য খালাস করতে মঙ্গলবার আমদানিকারক ও শিপিং এজেন্টগুলোকে চিঠি দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাল্ক জাহাজে আমদানি করা কনটেইনার বন্দরের বিভিন্ন শেডের ভেতরে ও বাইরে ডাম্পিং অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে। এতে বন্দরে বাল্ক জাহাজের অপারেশনাল কার্যক্রম বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে বন্দরের বহির্নোঙ্গরে থাকা জাহাজগুলোর বার্থিংয়ের ব্যবস্থা করতে দেরি হচ্ছে। এতে বন্দরের সুনাম ক্ষুণ্ন হবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সব আমদানিকারককে দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।