বুধবার দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এসপি মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। শিহাব বেলকা এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
গ্রেফতাররা হলেন- সুন্দরগঞ্জের মধ্য শান্তিরাম গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে সুমন, শান্তিরাম গ্রামের মঞ্জু মিয়ার ছেলে জিন্না মিয়া ও একই গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে বাদশা মিয়া। তারা তিনজন স্থানীয় বেলকা এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রণির শিক্ষার্থী।
.png)
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পঞ্চাশ লাখ টাকা মুক্তিপণের আশায় শিহাবকে অপহরণে পরিকল্পনা করেন সুমন, জিন্না ও বাদশা। ১৪ জুলাই রাত ৯টার দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী শিহাবকে বাড়ি থেকে ডেকে ওই বিদ্যালয়ের পিছনে নিয়ে যান তিন বন্ধু। পরে শিহাবকে মোটরসাইকেলযোগে সিচা বাজারে নিয়ে যান জিন্না ও সুমন। সেখানে ছিলেন বাদশাও।
তিনবন্ধু জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়াতে চাইলে বাধা দেন শিহাব। এ সময় শিহাবের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন সুমন। এতে অচেতন হয়ে পড়েন শিহাব। পরে তারা শিহাবকে তুলে নিয়ে যান ধুবনি গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে। সেখানে বাড়ির মালিক বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এরপর শিহাবকে বস্তাবন্দি করে তিস্তা নদীতে চুবিয়ে হত্যা করেন। পরে মরদেহ নদীতে ফেলে নিজ নিজ বাড়িতে যান।
ঘটনার পরদিন ১৫ জুলাই শিহাবের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ১৬ জুলাই অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আতাউর রহমান।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, হত্যায় সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বুধবার বিকেলে তাদের আদালতে নেয়া হয়েছে।