এরই মধ্যে অনেকেই এখন বরফ নেওয়ার জন্য ট্রলার নিয়ে খালে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ ট্রলার মেরামত শেষে করছেন রঙয়ের কাজ। কেউ বুনছেন জাল। আবার কেউ কেউ শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ট্রলারে উঠাচ্ছেন জাল। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় মহাখুশি তারা।
সংশ্লিষ্ট জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস ব্যবসায়ীরা জানায়, নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন উপকূলে পড়েছিল ট্রলারগুলো। ফলে অনেক ট্রলারে পড়ে যায় মরিচা। তবে এবার সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করছেন তারা।
.png)
বরগুনার বিভিন্ন ডকইয়ার্ডে দেখা যায়, অধিকাংশ ট্রলার মেরামত শেষে খালে অবস্থান করছে। অনেক ট্রলারে জেলেরা বাজার সদয়ের কাজে ব্যস্ত। কেউ কেউ ব্যস্ত ট্রলারে জাল, রশি ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী তোলার কাজে।
জেলেরা জানায়, আগেই ট্রলারগুলো রঙ করে ও ধুয়ে মুছে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তাদের আশা, গত মৌসুমের মতো এবারো ধরা পড়বে ঝাঁকে ঝাঁকে বড় বড় রূপালি ইলিশ। তা বিক্রি করে পরিবারে ফিরবে স্বাচ্ছন্দ্য। এমন স্বপ্ন নিয়ে সাগর যাত্রার অপেক্ষায় আছেন হাজার হাজার জেলে।

সোনা কাটা ইউপির জেলে ইলিয়াস বেপারী বলেন, ট্রলার মেরামতের কাজ শেষ। এখন বাজারে কেনাকাটা করব।
আরেক জেলে ইউসুফ বলেন, আশা করছি এবার ভালো মাছ পাব। পরিবারের অভাব দূর হবে।
জেলে জহিরুল ইসলাম বলেন, ট্রলারের মেরামত শেষে। এখন রঙয়ের কাজ বাকি। আজ ট্রলার খালে নামাব। ওইদিন বাজার করাও শেষ করব।
ট্রলার মালিক মোবারক আলী মৃধা বলেন, আমার চারটা ট্রলার আছে। সবগুলো ট্রলার মাছ ধরার জন্য সাগরে যেতে প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এ কারণে সাগরে মাছ বাড়বে। আশা করছি জেলেরা এখন বেশি মাছ নিয়ে ফিরবে।
লাউপাড়া এলাকার এনামুল বলেন, দীর্ঘদিন আমার ট্রলার স্থলে পড়ে থাকায় ভাঙন ধরেছে। সেসবের মেরামত শেষ করেছি। এখন সাগরে যাওয়ার অপেক্ষা।
বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া বলেন, ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় সাগরে যেতে পারেনি জেলেরা। অনেকে কোরবানিও দিতে পারেনি। পরিবার নিয়ে চলতে ফিরতে কষ্ট হয়েছে।
জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে কোনো ট্রলার সাগরে যায়নি। এখন অপেক্ষা আর একদিন।
প্রসঙ্গত, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় প্রতিবারের মতো এ বছরও গত ২০ মে থেকে আগামী ২৩ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল সরকার।