চুরির অভিযোগে মাথার চুল কেটে শিশুকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
টাকা চুরির অভিযোগে শিশুকে ধরে মাথা ন্যাড়া করে শিকলে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে উঠেছে। রাতভর বসতঘরে বেঁধে নির্যাতনের পর তাকে রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে রোববার সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি নেত্রকোণার মদনের ফতেপুর ইউপির রুদ্রশ্রী গ্রামের।
জানা গেছে, রুদ্রশ্রী গ্রামের কাজল মীরের ছেলে সুমন মীর শনিবার সকালে তার বসতঘরে ১১ হাজার ৫০০ টাকা বাক্সে রাখেন। টাকা রাখার সময় তার পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশী শিশু ওই ঘরে উপস্থিত ছিল। বিকেলে বাক্সের টাকা না পেয়ে ওই শিশুকে সন্দেহ করেন সুমন। পরে সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে তাকে ধরে নিয়ে ঘরে শিকলে বেঁধে রাখেন। রাতভর নির্যাতন শেষে রোববার সকালে শিশুটির মাথা ন্যাড়া করে বাড়ির সামনের বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সুলতান উদ্দিন ওই শিশুকে উদ্ধার করেন।
ওই শিশু জানায়, আমি টাকা চুরি করিনি। আমাকে শনিবার সন্ধ্যা থেকে সুমন তার ঘরে আটকে রেখে কয়েকজন লোক নিয়ে মারধর করেছে। সকালে আমার চুল কেটে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। সুলতান মেম্বার আসার পর আমাকে ছেড়ে দেয়। আমি এর বিচার চাই।
.png)
নির্যাতনকারী সুমন মীর বলেন, শনিবার সকালে ওর সামনে ১১ হাজার ৫০০ টাকা একটি বাক্সে রাখি। আমার টাকা সে চুরি করেছে। এর জন্য তাকে শাস্তি দিয়েছি। কিন্তু এখনো আমার টাকা উদ্ধার করতে পারিনি।
ইউপি সদস্য সুলতান উদ্দিন বলেন, টাকা চুরি করায় শিশুটিকে মাথা ন্যাড়া করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন সুমন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার শিকল খুলে দেই। কাজটা খুব খারাপ করেছেন সুমন।
মদন থানার ওসি মুহম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।