সিআইডি জানিয়েছে, সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন একই এলাকার মো. রাসেল মোল্লা ওরফে রূপকের। বিয়ের পরও চাকরি চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সুমির। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে, চাকরি ছাড়তে শ্বশুরবাড়ি থেকে নানা চাপ দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে চাকরি ছাড়তে রাজি হলেও কিছুদিন সময় লাগায় এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে সুমিকে গলা কেটে হত্যা করে স্বামী রূপক।
বুধবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর এইসব তথ্য জানান।
.png)
পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, গত ২১ জুলাই মানিকগঞ্জের ঘিওর থানাধীন শ্বশুরবাড়ি থেকে সুমির গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্তের ধারাবাহিকতায় আসামি রুপককে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে রূপক জানান, মানিকগঞ্জ জজকোর্টে অ্যাডভোকেটের সহকারী হিসেবে প্রায় নয় বছর ধরে কাজ করতেন। আড়াই মাস আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে সুমির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের আগে থেকেই সুমি একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। কথা ছিল সুমি বিয়ের পরও চাকরি করবেন। কিন্তু বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমিকে চাকরি ছাড়ার জন্য নানা চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে চাকরি ছাড়ার জন্য রাজি হলে অফিসের অনুরোধ অনুযায়ী কিছুদিন সময় চান সুমি।
তিনি আরো বলেন, চাকরি ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সুমিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুলাই রূপক ও সুমির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমিকে কিল-ঘুষি, লাথি মারতে থাকেন রূপক। এ সময় তার শাশুড়ি রূপককে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রূপক আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা ধারাল দা দিয়ে সুমির গলায় কোপ দেন। এতে সুমি মারা যান।