জনির বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে। তার পিতার নাম কবির মোল্যা। বিয়ের দুই মাস পর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সে কর্মসংস্থানের জন্য মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে লিবিয়ায় যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর লিবিয়ায় যান জনি। তবে সেখানে তিনি গত ২১ দিন ধরে মানবপাচারকারী এক চক্রের কবলে পড়েছেন। জনিকে বেঁধে মারধরের ভিডিও প্রতিনিয়ত পরিবারের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি মুক্তিপণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবি করে চক্রটি। তাদের পাঠানো একটি অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পাঠানোর পর আরো টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ। অন্যথায় জনিকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
.png)
জনির বাবা কবির মোল্যা বলেন, লিবিয়ায় যাওয়ার পর তিনমাস তার ছেলে কোনো কাজের সন্ধান পায়নি। পাঁচমাস আসে নিজের উদ্যোগেই সে একটি কাজে যোগ দেয়। সেখান থেকে প্রায় ৬৮ হাজারের মতো টাকা উপার্জন করে দেশে মা-বার কাছেও পাঠিয়েছে কিছু অংশ। কিন্তু এরপর গত তিন সপ্তাহ আগে সে সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দি হয়। এরপর বন্দি ঘরে তার পায়ে রশি বেধে ঝুলিয়ে উল্টো করে পেটানো হয়। ছেলেকে বাঁচাতে অবশেষে থানায় মামলা করেছে জনির পরিবার।
অভিযোগ পেয়ে ফেনী থেকে এই চক্রের এক সদস্য মাহাবুবুর রহমান ভুঁইয়া রাজীবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার অ্যাকাউন্টেই জনির বাবা মুক্তিপণের টাকা পাঠিয়েছিলেন। রাজীব মানবপাচারকারী চক্রের মাস্টার মাইন্ডদের একজন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক রকমের লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে রাজীবকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
এদিকে মামলা করায় জনির উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা। এখন তাদের দাবি, মামলা তুলে নিতে হবে নতুবা ৬০ লাখ টাকা দিতে হবে জনিকে বাঁচাতে। একইসঙ্গে জনির বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুরের মধুখালী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কর জানান, গত ২৯ জুলাই এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে যে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিআইডি এবং ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর (এনসিবি) কাছেও সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং জনিকে উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।