ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রেমিকের বিয়ের খবরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলো প্রেমিকা

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অভিযোগ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:১৩, ১২ আগস্ট ২০২২
প্রেমিকের বিয়ের খবরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলো প্রেমিকা
মৃতের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় প্রেমিকের বিয়ের খবর শুনে প্রেমিকার বিষপানে আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। মৃতের পরিবারের দাবি, প্রেমিক ঐ মেয়েকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের শেখপুরাকান্দিতে মৃতের পরিবার এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে। এ সময় মৃতের মা আমেনা বেগম, বাবা নিজাম খান, মামা বোরহান উদ্দিন মাদবর, সামাদ মাদবর, মামাতো বোন সাদিয়া আক্তার, সামিয়া আক্তার, মামি ফরিদা বেগম, সাহানাজ বেগম উপস্থিত ছিলেন। মৃত নুসরাত জাহান নড়িয়া উপজেলার জপসার লক্ষ্মীপুর গ্রামের নিজাম খানের মেয়ে। নুসরাত নড়িয়া মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে মৃতের মা আমেনা বেগম ও মামা বোরহান উদ্দিন মাদবর জানান, নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর কাঠপট্টি গৌড়াইল এলাকার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন হাওলাদারের ছেলে আল আমিন হাওলাদার এলাকার বখাটে। স্কুলে যাওয়ার পথে নুসরাত জাহানকে উত্ত্যক্ত করতেন আল আমিন। একপর্যায়ে তিনি নুসরাতকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে প্রেম করাতে বাধ্য করেন। বিয়ের আশ্বাসে প্রেমে জড়ায় নুসরাত। 

Advertisement

তবে নুসরাতকে বিয়ে না করে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ এলাকার এক মেয়েকে মঙ্গলবার বিয়ে করেন আল আমিন। এর আগের দিন সোমবার রাত ৯টার দিকে তার বিয়ের খবর শুনে নুসরাত ক্ষোভে-দুঃখে বাড়ির নিজ রুমে বিষপান করে। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত ৩টার দিকে নুসরাতের মৃত্যু হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

মঙ্গলবার নুসরাতের মামা বোরহান উদ্দিন মাদবর বাদি হয়ে নড়িয়া থানায় আল আমিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তাদের দাবি, নুসরাতকে বিয়ে না করে মানসিক চাপ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছেন আল আমিন। এজন্য আল আমিনকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এদিকে আল আমিনের বাবা দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে আল আমিনের সঙ্গে নুসরাতের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পরে নুসরাতের বাড়িতে আমি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাই। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। তাই ছেলেকে অন্যত্র বিয়ে করাই। পরে শুনি নুসরাত মারা গেছে। আমার ছেলের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা মামলা করেছে। আমার ছেলে নির্দোষ।

নড়িয়া থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামি আল আমিন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!