আটককৃত ব্যক্তির নাম মো. জিয়ারুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরকোদালকাটি জেলেপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। জিয়ারুল ওই এলাকার মাদক চক্রের হোতা বলে জানিয়েছে র্যাব-৫। শনিবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র্যাব-৫ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বর্ডার এলাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে মাদকদ্রব্য চোরাচালান করে আসছে। গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে র্যাব-৫ চক্রটির সন্ধান পাওয়ার পর তাদের নজরদারি করতে থাকে।
.png)
গোয়েন্দা তথ্যমতে, চক্রটি বিভিন্ন সময় বর্ডার থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে খুব কম সময়ের মধ্যে তা রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস, ট্রেন, ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় পাচার করে আসছিল। গোয়েন্দা দল এটাও শনাক্ত করে যে, পাচারের আগে চক্রটির হোতা জিয়ারুল বর্ডার থেকে মাদক সংগ্রহ করে রাতে কিছু সময়ের জন্য তা মজুত করে।
র্যাব-৫ এর গোয়েন্দা দল জানতে পারে শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাতে ওই চক্রের একটি বড় চালান পাচার হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দুর্গম চর এলাকায় ৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে র্যাবের অপারেশন দল দীর্ঘ ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বসে থাকে। অভিযানের এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টায় মো. জিয়ারুল ইসলামের বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার করে এবং জিয়ারুলকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে হেরোইন মজুতের কথা স্বীকার করে এবং তার ঘরের প্লেন সিটের বাক্সের নিচে লুকানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার করা হয়। তবে এর আগেই এক ব্যক্তি র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
র্যাবের এ অভিযানে ৪ কেজি ৪০০ গ্রাম হেরোইন, একটি মোবাইল, দুটি সিমকার্ড এবং মাদক ব্যবসার হোতা জিয়ারুল ইসলামকে আটক করা হয়।
সে এবং পলাতক আসামি মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা বর্ডার এলাকায় কৃষিকাজের আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে কৃষকের ছদ্মবেশে হেরোইন চোরাচালান করে থাকে। এর আগেও বেশ কয়েকবার তারা এ পন্থায় মাদক সরবরাহ করেছে বলে স্বীকার করে। আটককৃতের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র্যাব-৫।