বিদেশে বসে ‘ভাইগিরি’ চালাচ্ছেন শিবির নেতা সাজ্জাদ
চট্টগ্রাম পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী শিবির নেতা সাজ্জাদ হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পলাতক। তবে বিদেশে থাকলেও দেশের মাটিতে থেমে নেই তার অপকর্ম। সাজ্জাদের হয়েই দেশে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে তারই একটি দল। আর বিদেশে বসেই তিনি চালাচ্ছেন ‘ভাইগিরি’।
গত ২৬ জুলাই নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকার একটি ফোম কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফের আলোচনায় আসে সাজ্জাদের নাম। কারখানা মালিকের অভিযোগ- ফোন করে তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন সাজ্জাদ। আর চাঁদা না দেওয়ায় কারখানায় লাগানো হয় আগুন। ঐ ঘটনায় ভুক্তভোগীর করা মামলায় মোবারক ও জিসান নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে কারখানায় আগুন ও সাজ্জাদের হয়ে চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকারও করেন তারা।
ঐ ঘটনার পর ৩ আগস্ট একই থানার ভক্তপুর এলাকা থেকে বেলাল উদ্দিন মুন্না ও মো. নাজিম উদ্দিন নামে সাজ্জাদের আরো দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে নগর ডিবি পুলিশ। এর মধ্যে বেলাল উদ্দিন মুন্না সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিস্ফোরণ আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। এছাড়া নাজিম উদ্দিন হিরুর বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় বিস্ফোরণ আইনে পাঁচটি মামলা রয়েছে।
.png)
এদিকে, দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে সাজ্জাদের অপকর্ম। এতে অতিষ্ঠ সংগঠনের অন্য নেতাকর্মীরা। এমনটিই জানিয়েছেন নগর শিবিরের এক নেতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ নেতা বলেন, অনেক আগে থেকেই একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে আসছেন সাজ্জাদ। দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেন তাকে। ফলে দিনের পর দিন সেটি আরো বেড়েছে। একসময় দেশ ছেড়েও পালাতে হয়েছে। কিন্তু তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থামেনি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে চাঁদা দাবির অভিযোগ শুনি তার বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে তার বাহিনী সেখানে হামলা করে।
২০০০ সালে নগরের বহদ্দারহাটে ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ আটজনকে গুলি করে হত্যার নেতৃত্ব দেন সাজ্জাদ। ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার নয়াহাট এলাকার এক গাড়ির যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাজ্জাদের হয়ে ফোনে চাঁদা দাবি করেন তার সহযোগী সারোয়ার, ম্যাক্সন ও একরাম। তাদের কথামতো চাঁদা না দেওয়ায় ১৭ দিন পর ২৩ সেপ্টেম্বর ঐ ব্যবসায়ীর বাড়িতে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। সাজ্জাদের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ থানায় ১২টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।