ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঝড়ে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল দুই ট্রলার, বেঁচে ফিরলেন ৩৮ জেলে

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৩১, ২০ আগস্ট ২০২২
ঝড়ে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল দুই ট্রলার, বেঁচে ফিরলেন ৩৮ জেলে
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ভারতের সীমান্তে গিয়ে ৩৮ জেলেসহ ডুবে যায় বাগেরহাটের শরণখোলার দুটি ফিশিং ট্রলার। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ভারতের বেহেলা কয়লা নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার অফিস কিল্লার চরে আটকে পড়া দুটি ট্রলার ১৮ জেলেকে উদ্ধার করেছে বনরক্ষীরা। উদ্ধার জেলেরা দুবলা জেলেপল্লীর বনরক্ষীদের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ডুবে যাওয়া এফবি কালাম ও এফবি খায়রুল ইসলাম নামে দুই ট্রলারে থাকা ৩৮ জেলেকে অন্য দুটি ট্রলারের জেলেরা জীবিত উদ্ধার করেছেন। উদ্ধারকারী ট্রলার দুটি জেলেদের নিয়ে সকালে শরণখোলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। ডুবে যাওয়া ট্রলার দুটি বর্তমানে ভাসতে ভাসতে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা কাছাকাছি একটি চরে উঠে আটকে আছে। এ ঘটনায় শরণখোলা থানায় জিডির প্রস্তুতি চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতারা এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Advertisement

দুর্ঘটনার শিকার এফবি কালাম ট্রলারের মালিক শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর এলাকার মৎস্য আড়ৎদার মো. কবির হাওলাদা এবং এফবি খায়রুল ইসলাম ট্রলারের মালিক মৎস্য ব্যবসায়ী মো. জাকির হাওলাদার।

এদিকে, ট্রলার ডুবির ঘটনায় বিভিন্ন এলাকার নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে কোস্টগার্ড মোংলা পশ্চিম জোন। শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরের দিকে অপরাজেয় বাংলা নামে কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ মোংলা সদর দফতরের জেটি থেকে সাগর অভিমুখে রওনা হয়েছে জাহাজটি।

ভারতের সীমান্তে যাওয়া ট্রলার দুটির মালিক মো. কবির হাওলাদার ও জাকির হাওলাদার জানান, তাদের দুটি ট্রলারসহ আরো ৮ থেকে ১০টি ট্রলার ঝড়ে ঠেলে ভারতের সীমানার বেহেলা কয়লা এলাকা নিয়ে যায়। সেখানে সন্ধ্যার দিকে সাগরে প্রন্ড ঢেউয়ের আঘাতে তাদের ট্রলার দুটি ডুবে যায়। এ সময় কাছাকাছি থাকা শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেনের এফবি সোনার মদিনা ট্রলারের জেলেরা ২২ জনকে এবং আ. রহিমের একটি ট্রলারের জেলেরা ১৬ জনসহ মোট ৩৮ জেলেকে সাগরে বাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেন। জেলেদের ফির আসতে রাত হয়ে যাবে।

শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, এবারের ঝড়ে আমাদের এলাকার দুটিসহ অন্যান্য এলাকার বহু ট্রলার ডুবে ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষতি হয়েছে। ডুবে যাওয়া দুটি বাদেও শরণখোলার আরো ৪টি ট্রলার নিখোঁজ ছিল। সেগুলোর সন্ধান মিলেছে। এসব ট্রলারের জেলেরা পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কাছাকছি নিরাপদে আছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার মজুমদার জানান, সাগরে ঝড় ও ঢেউয়ের আঘোতে দুটি ফিশিং ট্রলার ১৮ জেলেসহ দুবলার মাঝের কিল্লার চরে উঠে আটকা পড়েছে। একটির নাম এফবি মায়ের দোয়া এবং অন্যটি নামবিহিন।

মায়ের দোয়ার মাঝি ফোরকান হাওলাদার ও নামবিহিন ট্রলারের মাঝি রেজাউল ফরাজী ওই বন কর্মকর্তাকে জানান, তাদের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। দুই ট্রলারের জেলেরা দুবলা সাইক্লোন শেল্টারে বনরক্ষীদের হেফাজতে রয়েছেন।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মামুন বলেন, দুপুরের পর থেকে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। দুপুর ২টার দিকে কোস্টগার্ডের (বিসিজিপি) অপরাজেয় বাংলা জাহাজটি নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সাগর অভিমুখে রওনা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!