বুধবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক আবদুস ছালাম খান এ রায় দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রুবেল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শিউলী বেগম, হাসিনা (পলাতক), আবদুর রব ওরফে রাহুল (পলাতক) ও আমিন। এ মামলায় আজগর আলী গাজী ও রেজাউল সরকারকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
.png)
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তার বাবাকে নিয়ে গবরচাকা এলাকার হাবির বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। অভাবের সংসার হওয়ায় স্থানীয় একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। আর এ সুযোগ কাজে লগিয়ে মামলার এজাহার নামীয় আসামি লাবনী ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর তাকে গার্মেন্টেসে কাজ দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়
এর কিছুদিন পর আসামি শিউলী ও লাবনী বাড়ি ফিরে আসেন। ভুক্তভোগীর বাবাকে তারা জানান, তার মেয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টেসে চকরি করছে। অনেক টাকা বেতন পায়। অল্প সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরে আসবে। এ সময় ভুক্তভোগীর বাবার হাতে ১ হাজার টাকা ধরিয়ে দেন তারা।
মেয়ে ফিরে না আসায় বাবা আসামিদের জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু তাদের কথায় সন্দেহ বাড়ে বাবার। পরবর্তীতে কয়েকজনকে নিয়ে আসামিদের বাড়িতে গেলে তারা স্বীকার করে যে তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় না নিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা থানায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন, মামলা নং ১০।
আদালত সূত্রে আরো জানা গেছে, ঘটনার দিন শিউলী বেগম ভুক্তভোগীকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে আসামি আমিনের সহায়তায় বোম্বে নিয়ে যায়। সেখানে নেয়ার পর ওই দুই আসামি হাসিনার হেফাজতে রাখেন। পরবর্তীতে একটি বাসা ভাড়া করে শিউলী ও ভুক্তভোগী একই স্থানে অবস্থান করেন।
পরে ওই তিনজন আসামি তাকে আবদুর রব ওরফে রাহুলের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরে আসেন। সেখানে তাকে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় নিয়োজিত করে। পরে পুলিশের সহায়তায় ভিকটিমকে ভারতের বোম্বে থেকে উদ্ধার করা হয়।