বিরামপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রত্যক্ষ সহায়তায় কৃষকরা মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে উচ্চ মূল্যের ফল ও ফসল আবাদে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করে কৃষি বিভাগ। এ অঞ্চলের মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের মাল্টা বাগান তৈরির প্রতি উৎসাহিত করা হয়। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে মাল্টা চারা সরবরাহ এবং কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে কয়েক বছরের মধ্যে চাষিদের প্রায় ৩০টি বাগান তৈরি করে দেওয়া হয়। এসব চাষিদের সাফল্য দেখে ব্যক্তি উদ্যোগে আরো ৩০টি বাগান তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া পতিত জমি এবং বাড়ির ছাদে অনেকে মাল্টা চাষ করেছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিরামপুরে পাঁচ বছর আগে মাল্টার কোনো চাষ না হলেও বর্তমানে প্রায় ৬০ বিঘা জমির ওপর ৬০টি মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে।
.png)
বিরামপুরের মুকুন্দপুর ইউনিয়নের পটুয়াকোল গ্রামের চাষি নূর ইসলাম মিঠু জানান, কৃষি বিভাগের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চার বছর আগে তিনি ২৫০টি মাল্টা গাছ রোপণ করেন। এতে দুই বছর পর ফল ধরতে শুরু করে। বর্তমানে তার বাগানে প্রতিটি গাছে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ কেজি হারে মাল্টা ধরেছে। অন্য চাষিদের বাগানেও এবার মাল্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। তাদের বাগান থেকে ফল ব্যবসায়ীরা তিন হাজার ২০০ টাকা মণ দরে মাল্টা কিনে নিয়ে যান।
নূর ইসলাম আরো জানান, খরচ বাদে মাল্টা বাগান থেকে তিনি এ বছর প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল জানান, বিরামপুরে প্রায় পাঁচ বছর আগে মাল্টা চাষের সূচনা হয়। বর্তমানে এ উপজেলার চাষিরা ব্যাপক হারে মাল্টার চাষ করছেন। এলাকার মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী। এখানকার মাল্টা অধিক সুস্বাদু এবং আকারেও বড়। চাষিদের অধিক লাভ এবং সাফল্য দেখে নতুন নতুন বাগান তৈরি হচ্ছে। কৃষকদের সার্বিক সহায়তার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।