ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কেঁচো সারে ভাগ্য বদল মনজুরের

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৬, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
কেঁচো সারে ভাগ্য বদল মনজুরের
কেঁচো সার পরিচর্যা করছেন মনজুর হোসেন

দুই বছর আগে এক হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছিলেন ভোলার লালমোহনের মো. মনজুর হোসেন। বর্তমানে তিনি পাঁচ লাখ টাকার মালিক। গড়ে তুলেছেন কেঁচো সারের একটি খামার।

জানা যায়, লালমোহনের পশ্চিম চরউমেদ ইউপির নমগ্রামের যুবক মো. মনজুর হোসেন নিজ খামারে কেঁচো সার তৈরি করেন। নিরাপদ ফসল উৎপাদনে এ সার দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দুই বছরে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল সার উৎপাদনকারী। যুবক মনজুর দেখাদেখি ওই গ্রামে এখন অনেকেই ঝুঁকে পড়ছেন কেঁচো সার উৎপাদনে। বর্তমানে নামগ্রাম এলাকার ৫০ জন কৃষক-কৃষাণী কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। কৃষি অফিস থেকে তাদের নিয়মিত দিচ্ছে নানান বিষয়ে পরামর্শ।

কেঁচো সার উৎপাদনকারী মনজুর হোসেন বলেন, কীটনাশকমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদনে কেঁচো সারের কোনো বিকল্প নেই। দুই বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কেঁচো সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এরপর ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছি ভার্মি কম্পোস্ট খামার। 

Advertisement

অনলাইন ও অফলাইনের মাধ্যমে শুরু করি সার বিক্রি। রিং, কারেন্ট ও হাউস পদ্ধতিতে এই সার উৎপাদন করা হয়। কেঁচো, গোবর, কচুরিপানা, কলাগাছ, খড়-কুটা দিয়ে ২৫-৩০ দিনের মধ্যেই তৈরি করা হয় এ কেঁচো বা জৈব সার। এ সার কুমিল্লা, যশোর, ঢাকা ও পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করছি। এতে নিজেও অনেকটা স্বাবলম্বী হয়েছি। আবার এ সার প্রয়োগ করে কৃষকরাও ভালো ফলন পাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক মো. হানিফ ও আবুল হোসেন বলেন, জমিতে কেঁচো সার প্রয়োগ করায় ফলনও অনেক ভালো হচ্ছে। অন্য সারের তুলনায় এ সার ব্যবহারে খরচ হয় অর্ধেক। আমরা মনে করছি এ সার প্রয়োগ করলে অন্যান্য কৃষকরাও অধিক লাভবান হতে পারবে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এমাজ উদ্দিন জানান, কেঁচো সার ফসল উৎপাদনের জন্য অনেক ভালো। মনজুর হোসেন কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে সফল হয়েছেন। এ সার ব্যবহারে খরচও অনেক কম। এ সার ব্যবহারে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন ভালো হয়, অন্যদিকে রাসায়নিক সারের জন্য কৃষকদের বাড়তি অর্থ গুনতে হয় না। যে কেউ এ সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!