জানা গেছে, ড্রোনটি রিমোটের সাহায্যে এবং জিপিএসের মাধ্যমে দূর থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ড্রোন তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এটি দিয়ে আবাদী জমিতে কীটনাশকসহ শুকনা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা যাবে।
সবুজ সরদার ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউপির পলি শিবনগর মহেশপুর গ্রামের ভ্যানচালক একরামুল সরদারের ছেলে। ফুলবাড়ী কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে এসএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন দিনাজপুর শহরের একটি বেসরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে। প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা দেওয়ার পর অর্থাভাবে আর পড়া হয়নি তার। ভ্যানচালক বাবার সামান্য আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
.png)
জানা গেছে, শখ থেকে মাত্র ৪৫ দিনে তৈরি করেন চালকবিহীন ছোট বিমান। এরপর স্বপ্ন দেখতে থাকেন কীভাবে মেধাকে কাজে লাগিয়ে কৃষি প্রধান এই দেশের জন্য কিছু করা যায়। শুরু হয় দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ করা। অর্থাৎ চালকবিহীন ড্রোন তৈরি। তিন মাসের প্রচেষ্টায় সফল হন সবুজ। তৈরি হয় ড্রোন। এই ড্রোন দিয়ে ধানক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করা সম্ভব। তার তৈরি ড্রোন ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার পলি শিবনগর গ্রামের ফসলের মাঠে চালকবিহীন একটি ড্রোন সবুজ ধান ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করছে। তা দেখতে ভিড় জমিয়েছে এলাকার উৎসুক জনতা।
সবুজের বাবা একরামুল সরদার বলেন, প্রথম প্রথম ছেলের এসব কাজে বিরক্ত লাগত। মনে হতো এমনিতেই সংসার চলে না তার ওপর অহেতুক টাকা-পয়সা নষ্ট করছে। কিন্তু এখন দেখছি, ছেলে যা করছে তা হয়তো দেশের কাজে লাগতে পারে। তবে সরকারি সহায়তা পেলে ছেলেটা আরও ভালো কিছু করতে পারত।
সবুজ সরদার বলেন, এর আগে চালকবিহীন ছোট বিমান তৈরি করেছি। তারপর শুরু হয় এই ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা। ড্রোন তৈরি করতে তিন মাস সময় লেগেছে। এখন আমার তৈরি এই ড্রোন আকাশে উড়ে। জমিতে স্প্রে করা যায়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় সফল হয়েছি। ড্রোনটি দুই লিটার তরল পদার্থ নিয়ে উড়তে পারে এবং স্প্রে করতে সক্ষম।
ড্রোন তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এখানে আরও ৩০-৪০ হাজার টাকা যোগ করলে ২০-২৫ লিটার তরল পদার্থ নিয়ে উড়তে পারবে আকাশে। এই ড্রোন দিয়ে ৩০ মিনিটে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে কীটনাশক স্প্রে করা সম্ভব।
সবুজ আরো বলেন, একবার চার্জ করলে ড্রোনটি ৩০ মিনিট আকাশে উড়তে পারবে। রিমোটের সাহায্যে এবং জিপিএসের মাধ্যমে দূর থেকেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রযুক্তির সাহায্যে এ ধরনের কিছু উদ্ভাবন করতে হলে প্রয়োজন অর্থের। তাই সরকারি বা বেসরকারিভাবে যদি আমাকে সহায়তা করা হতো, তাহলে আরও নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবন করেতে পারতাম।
ইউপি সদস্য মো. শাহিন সরদার বলেন, হাঠাৎ করে সবুজের এই উদ্ভাবন দেখে অবাক হয়ে গেছি। যা করছে তা দেখে ভালোই মনে হচ্ছে। কারণ এখন সবকিছু যন্ত্র নির্ভর হয়ে গেছে। তাই সবুজের এই আবিষ্কার যদি সরকারিভাবে কাজে লাগানো যেত, তাহলে দেশের কৃষকের উপকার হবে।