লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সুমি আক্তার কবিরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জৈনতপুর গ্রামের দাউদুল ইসলামের স্ত্রী। গত রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে প্রসূতি সুমিকে কবিরহাট প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য নেয়া হয়। প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় তাকে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করতে বলা হয়। না হয় বাচ্চা ও মায়ের জন্য ঝুঁকি আছে। তখন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রসূতি নারীর চাচা কবিরহাট প্রাইভেট হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের সঙ্গে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যাপারে আলোচনা করেন। তারা বলেন, তাদের সার্বক্ষণিক ডাক্তার থাকেন রাত ৯টায় সিজারিয়ান অপারেশ হবে। আপনারা দুই ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেন।
লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, তাদের কথামতো রক্তের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর রাত ৯টা পেরিয়ে গেলেও ডাক্তার আসে নি। অন্যদিকে প্রসূতি নারী ডেলিভারির ব্যথা যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকেন। রাত ৯টার পর ডাক্তার আসতে তারা ৫ মিনিট, ১০ মিনিট বলতে বলতে রাত ১টা ১০ মিনিট হয়ে যায়। কিন্তু কোনো ডাক্তার আসেনি। তখন প্রসূতির কষ্ট দেখে জোরপূর্বক জেলা শহর মাইজদী নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর বাচ্চা নরমাল ডেলিভারি হয়। পরে নবজাতককে মাইজদীর মুন হাসপাতালে ভর্তি করলে তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে এনআইসিউতে ভর্তি করা হয়।
.png)
কবিরহাট প্রাইভেট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, ওই প্রসূতিকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রাত সাড়ে ১০টার দিকে। রোগীর স্বজনরা ডাক্তারকে গালমন্দ করায় ডাক্তার আসেনি।
কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হান বলেন, ভুক্তভোগী প্রসূতি নারীর চাচা ফারুক বিষয়টি অবহিত করেছেন। তখন তাকে বলা হয়ে পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করতে। অভিযোগের কপি হাতে পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।