ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কয়েদির ফুটফুটে সন্তান প্রসব, উপহার পাঠালেন ডিসি

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২
কয়েদির ফুটফুটে সন্তান প্রসব, উপহার পাঠালেন ডিসি
ছবি: সংগৃহীত

জেলখানায় জন্ম নেয়া নবজাতকের জন্য উপহার পাঠালেন নাটোরের ডিসি ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আহমেদ। ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাবে আলোর পথ’ জেলখানার এ স্লোগান সত্য প্রমাণ করলেন ডিসি।

বড়বাড়ি গ্রামের মাসুদ রানার স্ত্রী হাজতি নুরজাহান বেগম কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ির থানার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

জেলার মো. আবু তালেব বলেন, হাজতি নুরজাহান গত ২৭ আগস্ট ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পুনরায় জেলে আসেন। কুড়িগ্রামের জেলের মাধ্যমে সেখানকার আদালতে যোগাযোগ করলে জানা যায় মাদক মামলায় তার দুই বছরের জেল হয়েছে।

Advertisement

কুড়িগ্রামের জেল কর্তৃপক্ষ নুরজাহানকে সেখানের জেলখানায় পাঠাতে বলেন। তবে তার সাজার পরোয়ানা এখনও নাটোর জেলখানায় আসেনি। এ সময় শারীরিক অবস্থায় কথা বিবেচনা করে নুরজাহানকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে চিকিৎসাপত্রে বাইরে বের হতে নিষেধ করেন। সে কারণে তাকে কুড়িগ্রামে পাঠানো যায়নি।

পরে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার প্রসব ব্যথা দেখা দিলে নাটোর সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে স্বাভাবিক গর্ভপাতে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। ছেলেটি ফুটফুটে এবং তার মা খুব খুশি।

বিষয়টি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আহমেদকে জানালে তিনি নবজাতকরে জন্য পোশাক এবং কসমেটিক জাতীয় সুরক্ষা সামগ্রী জেলখানায় পাঠান। জেল কর্তৃপক্ষের সুপারও তাদের বিভিন্ন সামগ্রী দিয়েছেন।

জেলার আবু তালেব বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নবজাতকের জন্য উপহার পাঠিয়েছেন এ খবর নিমিষেই জেলখানায় ছড়িয়ে পড়ে। জেল কর্তৃপক্ষ এমন উদ্যোগে গর্বিত এবং সব কয়েদী এবং হাজতিরা খুব খুশি হয়েছেন। এমন উদ্যোগ জেল ব্যবস্থাপনা বদলে দিতে পারে।

ডিসি শামীম আহমেদ বলেন, নবজাতকের মা অপরাধী হলেও যে শিশু আজ পৃথিবীর আলো দেখলো তার তো কোন অপরাধ নেই। তাদের পাশে দাঁড়ানোরও কেউ নেই। বাড়িতে জন্ম নিলে তো তাদের অনেক মানুষ শুভ কামনা করতো, উপহার নিয়ে আসতো। তাই আমরা সাধ্যমত উপহার পাঠিয়েছি। ‘কারাগার শুধু বন্দিশালা নয় এটি সংশোধনাগারও’ সেটাই আমরা বিশ্বাস করি।

জেলার আরো বলেন, মা আর ছেলে দু’জনেই আছে সুস্থ। কারাগারে জন্ম নেয়া এই শিশুর এখনও রাম রাখা হয়নি। জেলখানার অভিভাবক হিসেবে তিনিই রাখতে চান এই নবজাতকের নাম।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের নাটোর কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনায়োর হোসেন বলেন, এমন উদ্যোগ নজিরবিহীন। আগে কখনও কোন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কেউ এমন মহৎ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে তিনি শোনেননি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: নাটোর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!