সোমবার রাত ৮টার পর থেকে দ্বীপের চারপাশে সাগরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই এলাকার প্রায় মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। রাত ৯ টার পর জোয়ারের সাথে ৬-৮ মিটার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান।
.png)
তিনি জানান, দুপুরে প্রবল ঢেউ এবং দমকা হাওয়ার তোড়ে জেটি ঘাটে নোঙ্গর করা অন্তত ১৫টি নৌকা সাগরের পানিতে ডুবে যায়। এবার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্বীপের চারপাশে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনসাধারণকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা আমির হামজা বলেন, জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেন্টমার্টিনে খুব খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মনে হচ্ছে গভীর রাত হতেই পুরো সেন্টমার্টিন পানির নিচে তলিয়ে যাবে। এদিকে দ্বীপের রিসোর্টগুলোতে জোয়ারের পানি উঠেছে। চারদিক দিয়ে পানি ঢুকছে। আমাদের যাওয়ার কোনো পথ নেই। এতো পানি আমার ৪০ বছর বয়সে সেন্টমার্টিনে আর দেখেছি বলে মনে হয়না।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে সেন্টমার্টিনে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, নোঙর করা নৌকা ডুবে যাওয়ার খবর রয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু জায়গায় গাছ উপড়ে গেছে। তবে এ পর্যন্ত প্রাণহানি বা বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত প্রচার ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রয়েছে।
তাছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।