গত মঙ্গলবারের ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে লক্ষ্মীপুরের ৪টি উপজেলার কয়েকশ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড়ের কবলে পড়ে শীতকালীন সবিজ টমেটো, লাল শাক, পুঁইশাক, ঢেড়শ, গাজর, লাউ, কুমড়া, বাধাকপি, বেগুন, মরিচ, সিম, বরবটিসহ বিভিন্ন ফসলের গাছ ভেঙে গেছে। একইসঙ্গে এসব ফসলের ক্ষেতে পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের আবাদ করা ফসল। অনেক স্থানে পঁচন ধরেছে সবগুলো গাছ। প্রায় ৫শ’ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।
এসব ফসল কিছুদিনের মধ্যে আসার কথা ছিল। অর্থাৎ শীতকালীন সবজি হিসেবে চাষ করেছিলেন তারা। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই গাছে ফলন হতো। আর তা বাজারে বিক্রি করতে পারতেন। এখন তা আর হচ্ছে না। যদিও আগাম শীতকালীন হিসেবে বিক্রি করার কথা থাকলেও তা শীতকালীন সময়ে বিক্রি করতে পারবেন। সে সময় তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
.png)
জেলা সদরের ভবানীগঞ্জ, সুতারগুপ্তা, পেয়ারাপুর, রামগতি ও কমলনগরের অন্তত শতাধিক স্থানের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনার প্রবল জোয়ারের কারণে পানি ঢুকে ডুবে গেছে আমন ধানের ক্ষেত। কমলনগরের পাটারীর হাট, চর ফলকন, লধুয়া, নাসিরগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৭শ’ হেক্টর জমির আমান ধান গাছ ভেঙে পানিতে মিশে গেছে। রামগতির চর আলেকজান্ডার, বড়খেরি, জমিদার হাটসহ বিভিন্ন স্থানে আমনের ধানের গাছ ভেঙে ঝরে গেছে ধানের শীষ। একইসঙ্গে ধানের শীষ পানিতে পড়ে যাওয়ায় পচন ধরেছে। এছাড়া সদরের আরো কয়েকটি স্থানে সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। মজুচৌধুরী হাট, চররুহিতা, জররমনী মোহন, কালীরচর, টুমচর ও লাহারকান্দি এলাকায়।
তবে স্থানীয় চাষিরা শীতকালীন সবজি বাঁচাতে বিভিন্ন স্থানে সেলো মেশিন বসিয়ে পানি সেচ দিচ্ছে। ভেঙে পড়া টমেটো, মরিচ বেগুনসহ পড়ে যাওয়া সব সবিজ গাছ পুনরায় তোলার চেষ্টা করছে অনেকে।
ভবানীগঞ্জ এলাকার কৃষক সলিম উল্যাহ জানান, আগের দিন ক্ষেতের পরিচর্যা করে এসেছেন তিনি। গাছে কীটনাশক সার দিয়েছেন। প্রয়োজন অনুসারে পানিও দিয়েছেন লাল শাক ও পুঁইশাকের ক্ষেতে। কিন্তু পরদিন ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের করণে পানিতে ভেসে গেছে তার দুই একর জমির ফসল। কাঁচা মরিচ নষ্ট হয়েছে এক একর জমির। তবে অন্যান্য ফসল বিপদমুক্ত বলে জানান তিনি।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়া সবজি ক্ষেতগুলো পরিদর্শন করছেন স্থানীয় উপ কৃষি কর্মকর্তারা। তারা খোঁজ খবর নিচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তদের। যেসব কৃষকের ক্ষতি হয়েছে তাদের তালিকা করছেন। পরবর্তীতে তাদের কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে সহজতর প্রণোদনা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছেন, গত মঙ্গলবার সিত্রাংয়ের প্রভাবে জেলার রায়পুর, রামগতি, কমলনগর ও সদরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। তবে বেশি ক্ষতি হয়েছে সদরের ভবানীগঞ্জ এলাকায়। এখানে সবচেয়ে বেশি সবিজ চাষ হয়। পানি ঢুকে মরিচ, বেগুন খেত ও টমেটো খেতে ডুবে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে অন্যান্য ফসলি জমি। যার পরিমাণ প্রায় ১২শ’ হেক্টর। তবে আমনের ক্ষেত ডুবে আনুমানিক ৭শ’ হেক্টরের মতো নষ্ট হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. জাকির হোসেন জানান, শীতকালীন সবজি ও আমনের যেসব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় মাঠকর্মী, সহকারী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে যাচ্ছেন। কৃষকদের খোঁজখবর নিয়ে তাদের পরামর্শ দিচ্ছেন। তালিকা করা হচ্ছে। এসব তালিকা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো হবে। বরাদ্দ আসলে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরো বলেন, কৃষকরা এরমেধ্যে বিভিন্নভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছে। যেহেতু এখন আর বৈরী আবহাওয়া নেই। সামনে আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করা যায় নষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা পানি ডুবে যাওয়া ফসল পুনরায় উঠে দাঁড়াতে পারবে।