ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
বর্ষার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

ঘূর্ণিঝড়ের রাতে মাইক নিয়ে বোনকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন রুবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫২, ২৮ অক্টোবর ২০২২
ঘূর্ণিঝড়ের রাতে মাইক নিয়ে বোনকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন রুবি
ঘূর্ণিঝড়ের রাতে মাইক নিয়ে বোনকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন রুবি

২৪ অক্টোবর রাত প্রায় ৯টা। সবাই যখন ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে ঘর ধরছিল, ঠিক তখনই অটোরিকশায় মাইক বেঁধে রাস্তায় ঘুরছিলেন এক তরুণী। ততক্ষণে শুরু হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব। ঝড়ের সঙ্গে বইছিল দমকা হাওয়াও। সেই হাওয়ায় ভেসে আসছিল সেই তরুণীর কাতর কণ্ঠের আর্তি- আমার বোন মারজানা হক বর্ষা হারিয়ে গেছে। কেউ তার খোঁজ পেলে আমাদের একটু দয়া করে জানান।

এভাবে ছোট বোনের খোঁজে মাইকিং করা তরুণীর নাম সালেহা আক্তার রুবি। নিখোঁজের তিন দিন পর অবশেষে । বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের কোতোয়ালি থানার জামালখান এলাকার সিকদার হোটেলের পেছনের নালা থেকে মারজানা হক বর্ষার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মারজানা হক বর্ষা নগরের কুসুমকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়তো। বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে হলেও বাবা আব্দুল হকের চাকরির সুবাধে জামালখানের সিকদার হোটেলের পাশের একটি বাসায় ভাড়ায় থাকে তার পরিবার।

Advertisement

পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিপস কিনতে বাসা থেকে বেরিয়ে গলির মুখে দোকানে যায় বর্ষা। যাওয়ার পর আধাঘণ্টা অতিবাহিত হলেও বাসায় ফেরেনি সে। পরে পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। খোঁজ না পেয়ে থানায় জিডি করেন বর্ষার বোন সালেহা আক্তার রুবি।

বোনের বস্তাবন্দি লাশ পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে সালেহা আক্তার রুবি বলেন, সাত বছরের শিশুর কে শত্রু থাকবে? এলাকায় সবাই বর্ষাকে পছন্দ করতো। সোমবার বিকেলে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল দোকানে যাওয়ার জন্য। পরে বাসায় না আসায় দোকানে খোঁজ নিলে তারা জানান দোকানে যায়নি। এরপর আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় যোগাযোগ করেও খোঁজ পাওয়া যায়নি তার। 

রুবি বলেন, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করে লাশ নালাতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমার বোন নিখোঁজের পর যদি পুলিশ তৎপর হতো, তাহলে তাকে হত্যা করা যেত না। তাকে বাঁচানো যেত। এখন আমাদের কী হবে? যা হওয়ার সেটাই হয়ে গেছে। এখন একটাই দাবি- আমার বোনের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম। আলামত সংগ্রহ করেছে পিবিআই ও সিআইডির পৃথক টিম। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!