ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ওমিক্রনের নতুন দুই উপধরন ‘এক্সবিবি’ ও ‘বিএম ১.১.১’

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:১৭, ২৯ অক্টোবর ২০২২
ওমিক্রনের নতুন দুই উপধরন ‘এক্সবিবি’ ও ‘বিএম ১.১.১’
ওমিক্রনের নতুন দুই উপধরন

চট্টগ্রামে করোনার ওমিক্রন ধরনের নতুন উপধরন ‘বিএম ১.১.১’ ও ‘এক্সবিবি’তে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। ১২ জন রোগীর করোনার নমুনা বিশ্লেষণ করে এ দুই উপধরণের তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের একদল গবেষক এ গবেষণা করেন। গবেষণা শেষে ফলাফল বুধবার রাতে ‘গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা’ শীর্ষক জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে প্রকাশিত হয়।

গবেষক দলটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক আদনান মান্নান। সহ-তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ছিলেন বিভাগের শিক্ষক ফারজানা শারমিন। গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী কল্যাণ চাকমা, সাজ্জাদ হোসেন নয়ন, সবুজ বিশ্বাস, ফারহানা ইয়াসমিন, ফাহমিদা খানম, আল শাহরিয়ার আকাশ, আশিকুর আলিম, রুবেল আহমেদ ও আফসানা ইয়াসমিন তানজিনা। নমুনা বিশ্লেষণে ছিলেন অণুজীব বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা। পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল সুইজারল্যান্ডের ফাইন্ড ডায়াগনস্টিক।

Advertisement

নমুনা বিশ্লেষণের পুরো কাজ হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ‘নেক্সট জেনারেশন সিকুয়েন্সিং ল্যাব’ ও ‘রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ল্যাবরেটরিতে’।

গবেষকরা জানান, গত সেপ্টেম্বর ও চলতি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ১২ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর নমুনা নিয়ে গবেষণাটি করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়- ১২ জনের মধ্যে সাতজন এক্সবিবিতে ও বাকিরা বিএম ১.১.১-এ আক্রান্ত। এক্সবিবিতে আক্রান্ত সবার বয়স ২০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে।

গবেষক এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, এক্সবিবি উপধরনটি পৃথিবীর ১৭টি দেশে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভারত, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ। এক্সবিবি ওমিক্রনের অন্য উপধরনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক। এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই উপধরনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি কাজ করে না। এক্সবিবি ও বিএম ১.১.১—দুটি উপধরনই পূর্ববর্তী নানা ধরন-উপধরনের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে। এ কারণে উপধরন দুটিকে ‘রিকম্বিন্যান্ট ভাইরাস’ বলা হচ্ছে।

আদনান মান্নান বলেন, এ দুই উপধরনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে উপসর্গ তেমন দেখা যায় না। তবে হালকা জ্বর ও কাশি হয়। মারাত্মক কিছু হওয়ার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আক্রান্তরা ঠিক কত দিনে সেরে ওঠেন, সেই তথ্য নেই। 

তবে নতুন এ উপধরন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে করোনার আরেকটি ঢেউ আসতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ভারতের জনস্বাস্থ্যবিদ এবং অণুজীববিজ্ঞানীরা। 

২০২১ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর সেটি ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশে গত বছরের ডিসেম্বরে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। প্রথম ওমিক্রনে সংক্রমিত হন জিম্বাবুয়েফেরত বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের দুই সদস্য। এরপর দেশে এটির ব্যাপক বিস্তার ঘটে। ওমিক্রনের বেশ কিছু উপধরনও এরই মধ্যে শনাক্ত হয়েছে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে সংক্রমণের চিত্রে কয়েক দফা ওঠানামা করতে দেখা গেছে। গত বছরের শেষ দিক থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে করোনার ওমিক্রন ধরনের দাপট চলে। পরে ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। 

অন্যদিকে, চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল। ৯ এপ্রিল ভাইরাসটিতে প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়- গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্ত ১০ জনের মধ্যে ছয়জন নগরীর ও বাকি চারজন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। নতুন ১০ জন নিয়ে চট্টগ্রাম এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৪৫৭ জন। এরমধ্যে ৯৪ হাজার ৩৯০ জন নগরীর ও ৩৫ হাজার ৬৭ জন উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন এক হাজার ৩৬৭ জন। তাদের মধ্যে ৭৩৭ জন নগরীর ও ৬৩০ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!