পরীক্ষামূলক চালু হলো পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল
মিয়ানমার থেকে সরকারের আমদানি করা আতপ চাল খালাসের মধ্য দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল। মঙ্গলবার বিকেলে চাল বহনকারী জাহাজটি সেখানে নেয়া হয়। টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত শুধুমাত্র সরকারিভাবে আমদানি করা চাল বহনকারী জাহাজগুলো হ্যান্ডলিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে দুই হাজার ৬৫০ টন আতপ চাল নিয়ে আসা ‘এমসিএল-১৯’ নামের জাহাজটি মঙ্গলবার বিকেলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে নেয়া হয়। বুধবার সকাল থেকে খালাস শুরু হয় এসব চাল। এরপর পাঠানো শুরু হয় নগরের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডিতে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারিভাবে ভারত ও মিয়ানমার থেকে চাল নিয়ে আসা ক্রেনহীন অপেক্ষাকৃত ছোট জাহাজগুলোকে এ টার্মিনালে বার্থিং দিয়ে চাল খালাস করা হবে। এখানে ইকুইপমেন্ট স্থাপন ও অপারেটর নিয়োগসহ বিভিন্ন কাজ শেষ হতে সময় লাগবে।
.png)
২০১৭ সালের ১৩ জুন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের শেষ সময় ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে ব্যয় আরো এক হাজার ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আরডিপি বরাবর আবেদন করে প্রকল্প সংস্থা।
গত বছরের মার্চে টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ‘ইকুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল’ প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেয় সরকার। টার্মিনাল অপারেশন পরিচালনা ও বিনিয়োগ প্রস্তাবে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড, ভারতের আদানি পোর্ট আ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড এবং সিঙ্গাপুরের পিসিএর মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রাক-সমীক্ষা অনুযায়ী প্রকল্পটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বার্ষিক পরিচালনা ব্যয় আট মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে রয়েছে ৩২ একর জায়গায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ জেটি। যেখানে তিনটি জাহাজ বার্থিং করতে পারবে। এছাড়া থাকবে ২২০ মিটার দীর্ঘ একটি ডলফিন জেটি। থাকছে এক লাখ ১২ হাজার বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ ইয়ার্ড এবং রাস্তা। পাশাপাশি দুই হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন শেড (সিএফএস), ছয় মিটার উচ্চতার এক হাজার ৭৫০ মিটার কাস্টমস বন্ডেড ওয়াল, পাঁচ হাজার ৫৮০ বর্গমিটার পোর্ট অফিস বিল্ডিং, এক হাজার ২০০ বর্গমিটার যান্ত্রিক ও মেরামত কারখানা, দুই হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্রেক নির্মাণ, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ, চার লেনবিশিষ্ট শূন্য দশমিক ৭৫ কিলোমিটার এবং ছয় লেনবিশিষ্ট এক কিলোমিটার আগের রাস্তা স্থানান্তর করে পুনর্নির্মাণ, সিকিউরিটি পোস্ট, গেস্ট হাউস, ফুয়েল স্টেশন এবং লেবার শেড করা হয়েছে।
এছাড়া টার্মিনাল পরিচালনা কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মধ্যে থাকবে দুটি ফায়ার ট্রাক, একটি ফায়ার কার, তিনটি নিরাপত্তা পেট্রোল কার, একটি আম্বুলেন্স, চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন, চারটি স্ট্রাডেল কেরিয়ার, চারটি রিচ স্ট্যাকার, আটটি রাবার টায়ারড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি), চারটি লো-মাস্ট ফর্ক লিফট, চারটি ফর্ক লিফট, একটি রেইল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরএমজি), দুটি টাগ বোট, দুটি পাইলট বোট এবং দুটি ফাস্ট স্পিডবোট। আর রেললাইন সংযুক্ত থাকবে সাউথ কনটেইনার ইয়ার্ডের সঙ্গে।