ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

খুলনায় নয় মাসে ২৭৯৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৩৭, ১৮ নভেম্বর ২০২২
খুলনায় নয় মাসে ২৭৯৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত
ফাইল ছবি

গত বছরের তুলনায় খুলনা বিভাগে চলতি বছরের সাড়ে ৯ মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত হয়েছে। বছর শেষ হতে এখনো ১ মাস ১২ দিন বাকি। এ বছর ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক) নিয়ে মোট ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ জন।

এ সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয় ১১ জনের। যা গত বছরের তুলনায় শনাক্ত ও মৃত্যুর হার কয়েকগুণ বেশি। শনাক্তের মধ্যে যশোরে সর্বোচ্চ এবং মৃত্যুতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। গত বছর (২০২১ সাল) খুলনা বিভাগে ও খুমেক হাসপাতালে নিয়ে মোট শনাক্ত হয়েছিল ৫০৫ জন এবং মৃত্যু হয় ৩ জনের।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সূত্রমতে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

Advertisement

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. রবিউল হাসান জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগী বেড়ে গেলেও আমাদের হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আছে। চিকিৎসা দিতে পারবো ঠিকই, কিন্তু এডিস মশা মারতে পারবে না। এ জন্য সবাইকে সর্তক থাকতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আঙিনা পরিষ্কার এবং বৃষ্টিপাত মশার প্রজননে সহায়তা দেয়। সেগুলো না থাকলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে।

খুমেক হাসপাতালের আরএমও ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, ডেঙ্গু রোগী দেরিতে হাসপাতালে যাওয়া বা সঠিক সময়ে না যাওয়ার কারণেই শক সিন্ড্রোম হচ্ছে। হাসপাতালে যাওয়ার আগেই রোগীদের শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে যখন নেয়া হয় তখন তাদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। দুই-তিনদিনের মধ্যেই তারা মারা যান। এজন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। তাই জ্বর বা সর্দি-কাশি হলেই পরীক্ষা করাতে হবে। প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যথা সময়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে ভয়ের কোনো কারণ নেই।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার গত ২৪ ঘণ্টায় খুমেক হাসপাতালসহ খুলনা বিভাগে ১০ জেলায় নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫২ জন। এরমধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, খুলনায় ৪ জন, বাগেরহাটে ২ জন, সাতক্ষীরায় ১ জন, যশোরে ১৬ জন, ঝিনাইদহে ১ জন, মাগুরায় ২ জন, নড়াইলে ৬ জন ও কুষ্টিয়ায় ৭ জন ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। চলতি বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ জন। এ সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের।

শনাক্তের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় ৪৯৫ জন। এছাড়া খুলনায় ২০৩ জন, বাগেরহাটে ১২৫ জন, সাতক্ষীরায় ৬২ জন, যশোরে ৮২১ জন, ঝিনাইদহে ৮৯ জন, মাগুরায় ১৮১ জন, নড়াইলে ৩২৬ জন, কুষ্টিয়ায় ৪৬৬ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৮ জন ও মেহেরপুরে ২৩ জন। মৃত্যুর মধ্যে বাগেরহাটে ১ জন, নড়াইলে ২ জন, কুষ্টিয়ায় ১ জন এবং খুমেক হাসপাতালে ৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৫৩০ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ১৮০ জন এবং রেফার্ড রোগীর সংখ্যা ৭৬ জন।

অন্যদিকে, গত বছরের খুমেক হাসপাতালসহ বিভাগের ১০ জেলায় মোট ডেঙ্গু রোগী ছিলো ৪৮৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৩ জনের। শনাক্তের মধ্যে খুলনায় ১৩ জন, বাগেরহাটে ২০ জন, সাতক্ষীরায় ২৩ জন, যশোরে ১৪৩ জন, ঝিনাইদহে ৩৪ জন, মাগুরায় ২২ জন, নড়াইলে ৪১ জন, কুষ্টিয়ায় ৪৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২ জন, মেহেরপুরে ২১ জন এবং খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো ১৩৮ জন। মারা যাওয়ার মধ্যে খুমেক হাসপাতালে ২ জন এবং যশোরে একজন রোগীর মৃত্যু হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!