ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিপদ মানেই ‘৯৯৯’, ৯ মাসেই সাত হাজার কল

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ২১ নভেম্বর ২০২২
বিপদ মানেই ‘৯৯৯’, ৯ মাসেই সাত হাজার কল
প্রতীকী ছবি

চলতি বছরের ২৪ আগস্ট। চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার কাজির গলি চৌরাস্তা মোড় এলাকায় সাত বছর বয়সী ছাত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে মাদরাসার একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এক শিক্ষক। বিষয়টি জানতে পেরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে জানায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার। অভিযোগ পেয়ে একই দিন বিকেলে অভিযুক্ত শিক্ষক মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে ১৭ জুলাই নগরের জিইসি মোড় এলাকায় এক তরুণীকে রিকশা থেকে নামিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন কয়েকজন যুবক। উপায় না পেয়ে দ্রুত ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানান রিকশাচালক। এরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জড়িত আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ দুটি ঘটনাই নয়, ধর্ষণসহ নারী সহিংসতার এমন ঘটনায় চলতি বছর চট্টগ্রাম থেকে ৯৯৯-এ কল করা হয়েছে ৩৫২টি। সমস্যার ধরণ বুঝে তাদের দেওয়া হয়েছে সহায়তাও। এমনটিই জানিয়েছে পুলিশের ৯৯৯ সেন্টার।

Advertisement

তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম থেকে সেবা চেয়ে কল করা হয়েছে ছয় হাজার ৮২৮টি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৭৫২, ফেব্রুয়ারিতে ৬৩৮, মার্চে এক হাজার ৩৯৫, এপ্রিলে ৬৭০, মে মাসে ৬৭৬, জুনে ৬৮১, জুলাইয়ে ৬৭৮, আগস্টে ৭১২ ও সেপ্টেম্বরে ৬২৬টি কলে সেবা চাওয়া হয়।

এসব কলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারামারির ঘটনায় সেবা চাওয়া হয়। জানুয়ারিতে ১৮৫, ফেব্রুয়ারিতে ১৫৭, মার্চে ১৪৩, এপ্রিলে ১৭২, মে মাসে ২০২, জুনে ১৬৬, জুলাইয়ে ১৮৮, আগস্টে ১৭৪ ও সেপ্টেম্বরে ১২৮টি মিলিয়ে এক হাজার ৫১৫টি কল করা হয় মারামারির ঘটনায়। মারামারির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কল ছিল জমি দখলের ঘটনায়। ৯ মাসে এ বিষয়ে কল দেওয়া হয় ৯৯০টি। এছাড়া চুরি, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, নারী সহিংসতা, পারিবারিক সমস্যা, মেডিকেল সেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্যান্য কল দেওয়া হয়।

৯৯৯-এর ফোকাল পারসন (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বলেন, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে দেশের নাগরিকরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সেবা চান। ৯৯৯-এর কন্ট্রোল রুম থেকে তাদের সর্বোচ্চ সেবাটুকু দেওয়া হয়। যারা প্রতিকার চেয়ে কল করেন, তাদের ঘটনাটি দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়। তারাই ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাণনাশের আশঙ্কা, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটকে রাখা, অসুস্থতা, ছিনতাই, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, অ্যাম্বুলেন্স, পারিবারিক সমস্যা, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার, শব্দদূষণসহ নানা ধরনের সমস্যায় সাধারণ ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে কন্ট্রোল রুম থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। জরুরি যেকোনো প্রয়োজনে কোনো একটি মুঠোফোন থেকে বিনা পয়সায় যে কেউ কল দিতে পারছে এখানে। সপ্তাহে সাতদিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এ সেবা। ৯৯৯ সার্ভিসের প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।

তিনি আরো বলেন, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর এ সেবা চালু হয়। চালুর পর সারাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত চার কোটি চার লাখ ২১ হাজার ৪৩৫টি কল এসেছে। যার মধ্যে ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ বা দুই কোটি ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৪টি কল ছিল কোনো কারণ ছাড়াই। ফলে এসব ফেক কল হিসেবে ধরা হয়েছে। এছাড়া ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা এক কোটি ৬৪ লাখ ৭২ হাজার ১৫১টি কলের বিপরীতে সেবা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ আসা কলগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এডিসি (জনসংযোগ) পংকজ দত্ত।

তিনি বলেন, ৯৯৯ মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। সময় স্বল্পতায় মানুষ এখন এখানেই কল দেয়। ৯৯৯-এ কল পেলে বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়। তারাও তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ঘটনার ধরন বুঝে ৯৯৯-এর কন্ট্রোল রুম থেকে সেই থানায় আবার কল করে বিষয়টি তদারকি করা হয়। যারা প্রতিকার চেয়ে কল করেছেন তারা সঠিকভাবে সেই সহায়তা পেয়েছেন কিনা নিশ্চিত করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!