বিকেলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ওই নারীকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোজাফ্ফর আহমদ হেলালী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় একমাত্র আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
.png)
নিহত শিশু আল ওয়াসী চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকার সাহাব উদ্দিনের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নীর সঙ্গে নিহত শিশুর বাবা সাহাব উদ্দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নীর অন্যত্র বিয়ে হয়। একে একে তিনটি বিয়ে করলেও কোনো সংসারই টেকেনি তার। এরপর সাবেক প্রেমিক সাহাব উদ্দিনকে বিয়ের জন্য চাপ দেন তিনি। এতে রাজী হননি সাহাব উদ্দিন। এ কারণে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তার শিশুপুত্রকে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ ঘটান।
মোজাফ্ফর আহমদ হেলালী জানান, ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি বিকেলে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকায় বাড়ির সামনে বাদী রুনা ইসলামের ছেলে আল ওয়াসী ও মেয়ে ইফতি প্রতিবেশী রফিক উদ্দিনের শিশু সন্তান মিনফা ও রাইসার সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। এক পর্যায়ে বাদীর ছেলে আল ওয়াসী ও মেয়ে ইফতিকে নাস্তা খাওয়ানোর জন্য খুঁজতে যান। এ সময় ইফতিকে পেলেও আল ওয়াসীর সন্ধান পাননি। পরে স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না পেয়ে ঘটনার দিনই চকরিয়া থানায় মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেন। ঘটনার পরদিন ২২ জানুয়ারি সকালে মাতামুহুরী নদীর দক্ষিণ পাড়ে পানিতে এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার খবর স্থানীয়দের কাছ থেকে পেয়ে স্বজনরা শনাক্ত করেন।
ওইদিন রাতে নিহত শিশুর মা রুনা ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর সেদিন রাতেই পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নীকে গ্রেফতার করে। পরে ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি।