বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) এ রায় দেন রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান।
আসামি দেওয়ান আরিফুর রহমান আরিফ (৩৮) বগুড়া জেলার উপশহর হাউজিং এস্টেট এলাকার মৃত দেওয়ান আক্তারের ছেলে।
.png)
আদালতের রায় ঘোষণার পর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ইসমত আরা।
তিনি জানান, মামলাটি বগুড়া থানায় ২০২১ সালের ২ মে দায়ের করা হয়। বগুড়ার উপশহর পদ্মা ভবন এলাকার বাসিন্দা মো. শরিফুল ইসলাম মামলাটির বাদী। তার বন্ধু আসামি আরিফ বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে তার বাথরুমে গোপন ক্যামারা স্থাপন করেন। ওই ক্যামেরায় তার স্ত্রীর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে পরে বাদীর স্ত্রীর ফেসবুক আইডির মেসেঞ্জারে প্রেরণ করেন এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। বাদীর স্ত্রী লোকলজ্জার ভয়ে আত্মীয়কে টাকা দেওয়ার নাম করে ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন।
পরে আবারো বাদীর স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করলে উপায়ান্তর না পেয়ে স্বামীকে (বাদীকে) ঘটনাটি খুলে বলেন। বিষয়টি বাদী জানার পর আসামি আরিফকে তার মুঠোফোন, ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ডিসএ্যাবল করেন এবং হোয়াটসঅ্যাপে নম্বর ব্লক করে রাখেন। গত বছরের ২৬ মার্চে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আরিফ আবারো বাদীকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান।
পরবর্তীতে মানহানিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে বাদী শরিফুল ইসলাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরিফের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০১৮ এর ২২(২) ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৬ (২) ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৯ (২) ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে মোট দেড় বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে আসামিকে এবং এই সাজা একসঙ্গে চলবে বলেও জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা।
পিপি ইসমত আরা আরো জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৮/১৯/২৩ ধারার অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে এ তিনটি ধারা থেকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। রায় ঘোষণার পর আদালত আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাদীকে জরিমানার অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে রায়ের অনুলিপি বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অনুলিপি প্রেরণের নির্দেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আরিফ পলাতক ছিলেন।