ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

আঙুলের বদলে শিশু মাইশার পেট সেলাই, সেই হাসপাতাল বন্ধ 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২৯, ৫ ডিসেম্বর ২০২২
আঙুলের বদলে শিশু মাইশার পেট সেলাই, সেই হাসপাতাল বন্ধ 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

৩০ নভেম্বর সকালে রাজধানীর মিরপুরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে আঙুলের অপারেশন করাতে গিয়ে মারা যায় কুড়িগ্রামের পাঁচ বছরের শিশু মারুফা জাহান মাইশা। অনিবন্ধিত হওয়ায় তদন্ত শেষে হাসপাতালটি বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে শুধু হাসপাতাল বন্ধ নয়, অপারেশনে জড়িত চিকিৎসকদেরও শাস্তি দাবি করেছেন শিশু মাইশার মা-বাবা।

রোববার রাতে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতাল বন্ধের খবরের প্রতিক্রিয়ায় এ দাবি জানান মাইশার মা বেবি আক্তার ও বাবা মোজাফফর আলী।

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে হাতের আঙুল অপারেশন করার সময় মাইশার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ কুড়িগ্রামে নিয়ে দাফনের আগে গোসলের সময় তলপেট কেটে সেলাই দেওয়া দেখতে পান স্বজনরা। এ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মাইশার ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে অপারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মা, স্বজন ও এলাকাবাসী।

এদিকে, মেয়ের মৃত্যুর চার দিন পর হাসপাতাল বন্ধের খবরে মোটেও স্বান্তনা পাচ্ছেন না মাইশার বাবা-মা। 

হাসপাতাল বন্ধ কোনো বিচার নয় দাবি করে মোজাফফর বলেন, ‘হাসপাতাল বন্ধ করলেই হবে না, আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, সেই চিকিৎসকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমার মেয়েকে তো আর ফিরে পাবো না। আমার মেয়ের জীবন গেছে, আর কোনো বাবা-মায়ের সন্তানদের জীবন যেন এমন কসাইদের হাতে না যায়। আর কোনো বাবা-মাকে যেন এভাবে সন্তান হারা হওয়া না লাগে। আমার নিষ্পাপ মেয়ের মতো আর কোনো মেয়ে যেন ওদের অপারেশন টেবিলে জীবন না দেয়।’


তিনি আরো বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। ওই ডাক্তার (ডা. আহসান কবীর) আমার বাসায় সমঝোতার জন্য তার এক বন্ধুকে পাঠাইছে। আমাদের টাকা দিয়ে বিষয়টা আপসের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমরা বলছি, মেয়ের জীবন বিক্রি করতে পারবো না। আমরা টাকা চাই না, বিচার চাই। আমার মেয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধার নাতনি, সে যেন বিচার পায়।’

প্রথম সন্তান হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে রয়েছেন বেলি আক্তার। নাড়িছেড়া ধন হারিয়ে পাঁচ দিন ধরে কাঁদতে কাঁদতে গলার স্বর ভেঙে ফেলেছেন। তার একটাই দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিচার। 

মাইশার মা বেলি আক্তার বলেন, আমার মেয়ের হাতের আঙুল অপারেশন করতে গিয়ে তারা পেট কাটলো কেন? তারা পেট থেকে কিছু বের করে নিয়েছে কিনা সেটা তদন্ত করা হোক। এভাবে আমার মেয়ের জীবন নেয়ার জন্য আমি ওদের বিচার চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতাল বন্ধ করে কী হবে! কয়েকদিন পর আবার ওখানে অন্য কোনো মায়ের বুক খালি হবে। হাসপাতাল বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে অপারেশনে জড়িত সবার শাস্তি চাচ্ছি। সরকারের কাছে আমার এটাই মিনতি।

বেলি আক্তার বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার কাছে একজন এসে বিষয়টা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে আপসের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, আপস করলে আমাদের বেশকিছু টাকা দেবেন। ওই ডাক্তারদের নাকি কিছুই হবে না। এর চেয়ে আপস করলেই ভালো হবে। কিন্তু আমি ও আমার স্বামীসহ আমাদের স্বজনরা তাকে না বলে দিয়েছি। আমরা মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাই।’

‘আমার সোনামনিটার পেট এতদূর কেন কাটছে এটা আমার জানতে হবে। এই জবাবটা আমাকে কেউ নিয়া দেন।’ আঙুল অপারেশনে শিশু মাইশার পেটের বিশাল অংশ কেটে সেলাইয়ের কারণ জানতে এমন আকুতি জানান বেলি আক্তার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!