প্রতিবছর ৫ মিনিট হলেও ট্রাজেডি উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে তিন মিনিট সকল প্রকার যান চলাচল হাঁটা সব কিছু বন্ধ ছিলো। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে নয়টায় শহিদ বেদিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে পৌনে ১১ টার দিকে শহরের ছোট বাজার শহিদ মিনার মোড়ে উদীচিসহ জেলার সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তিন মিনিট নিরবতা পালন করেন। এরপর একটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অজহর রোডের উদীচী কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সকালে জেলা শহরের অজহর রোডস্থ উদীচী কার্যালয়ের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় জেএমবি।
.png)
বোমা হামলায় আত্মঘাতী কিশোরসহ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্তা পাল শেলী, মোটর মেকানিক যাদব দাসসহ ৮ জন নিহত এবং কমপক্ষে অর্ধশত মানুষ আহত হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই, সামরিক শাখার প্রধান আতাউর রহমান সানি, জেএমবি কমান্ডার আসাদুজ্জামান, সালাউদ্দিন এবং ইউনূসসহ ৮ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। এরই মধ্যে ঢাকা দ্রুত বিচার ট্র্যাইব্যুনাল আদালত-২ নেত্রকোনায় বোমা হামলা মামলার ৭ আসামিকে ফাঁসি ও বাংলা ভাইয়ের স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ ও নতুন প্রজন্মের সামনে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দুর্বার প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলার লক্ষ্যে নেত্রকোনার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে প্রতি বছর ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা ট্র্যাজিডি দিবস পালন করে আসছে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ জানান, উদীচী এবং সংস্কৃতিকর্মীরা অসহায় পরিবারটির জন্য আবেদন করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।