সরিষা ফুলে কৃষকের স্বপ্নের জাল
চলছে অগ্রহায়ণ, মাঠভরা আমন ধানের যৌবনিকা টানতে না টানতেই আসন্ন সংকটের কথা মাথায় রেখে বেশি লাভের আশায় সরিষা বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। ধানের পাশাপাশি সরিষা থেকে অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যায় বলে অধিকাংশ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়। কেউ কেউ আমন ধান কাটা মাড়াইয়ে ব্যস্ত। কেউবা ধান কেটে বাড়ি আনার প্রতিক্ষায় মাঠেই রয়েছে।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং, মোজাফফরপুর, পাইকুড়া, গন্ডা বিভিন্নসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আমন ধান কাটা শেষ না হতেই সরিষার বীজ বপন করেছেন অনেকেই। তবে কোথাও কোথাও সরিষার বীজ বপনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে জমিগুলো, কোথাও আবার সরিষার চারা ৫-১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে নতুন ধান ঘরে তুলেই অনেক এলাকায় ঘরোয়া পরিবেশে করা হচ্ছে নবান্নের উৎসব। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে সুবাসিত পুরো এলাকা। ধানের দাম একটু বেশি থাকায় কৃষকের মুখে সোনালী ফসলের অকৃত্রিম হাসি বিরাজমান।
উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের চাষী হাবিবুর রহমান বলেন, এ বছর ৮ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছিলাম, যা কেটেই সরিষা বীজ বুনে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ধানের মতো সরিষা থেকেও ভালো ফলন পাব। এছাড়াও গন্ডা ইউপির সরিষা চাষি মানিক মিয়া, ১ বিঘা জমিতে সরিষার বীজ বপন করেছি। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে সরিষা থেকে মোটামুটি একটি ভালো অর্থ পাব। লাভও হবে বেশি যা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ জোগাতে পারব বলে আশা করছেন তিনি।
.png)
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ৫০৯ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত সরিষা বারী-১৭, বিনা-৪ সরিষা চাষ হয়েছে। এ গুলো থেকে হেক্টর প্রতি ১ দশমিক ২ টন ফলন হয়েছিল। তবে এ বছর ৭০০ হেক্টর জমিতে বারী সরিষা-১৪, বিনা -৭, বারী-১৮, বারী-১৯ বীজ বপন করা হয়েছে। যেখানে হেক্টর প্রতি ১ দশমিক ৩ টন ফলন হবে বলে আশা করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ কে এম শাহজাহান কবীর বলেন, এ বছর ২ হাজার কৃষককে বারি সরিষা ১৪ বীজ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটা আবাদে কৃষকদের ভালো ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সার, বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতিসহ প্রতিনিয়ত নানাবিধ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও কৃষি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।