ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

১২ ডিসেম্বর নরসিংদী মুক্ত দিবস 

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫২, ১২ ডিসেম্বর ২০২২
১২ ডিসেম্বর নরসিংদী মুক্ত দিবস 
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্মিলিত মুক্তি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে নরসিংদী শহরসহ গোটা জেলা পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি নরসিংদীবাসীর কাছে অত্যন্ত গৌরবোজ্জল ও স্মরণীয় দিন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক খণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এসব যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতার শিকার হয়ে শহীদ হন ১১৬ জন। এর মধ্যে নরসিংদী সদরে ২৭, মনোহরদীর ১২, পলাশে ১১, শিবপুরের ১৩, রায়পুরায় ৩৭ ও বেলাব উপজেলার ১৬ জন শহীদ হন।

নরসিংদীর বীর মুক্তিযুদ্ধা মোতালেব পাঠান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় নরসিংদী জেলা ছিল ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে। ৭১ এর মার্চে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে নরসিংদীতে ইপিআর, আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়। হাজার হাজার ছাত্র জনতা তাদেরকে স্বাগত জানায়। নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে শত শত যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ খবর কোনোভাবে পৌঁছে যায় পাক বাহিনীর কাছে। ৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বিমান বাহিনী নরসিংদী শহরে বোমাবর্ষণ শুরু করে। তখন গোটা শহরে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়।’ 

Advertisement

তিনি আরো বলেন, ‘ওই বোমা বর্ষণে শহিদ হন আবদুল হক ও নারায়ণ চন্দ্র সাহাসহ নাম না জানা আরো ৮ জন। ২৩ মে তৎকালীন মুসলীম লীগ নেতা মিয়া আবদুল মজিদ মুক্তি সেনাদের গুলিতে নিহত হন। পরে শুরু হয় প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও চোরাগুপ্তা হামলা। এরমধ্যে পাক বাহিনী নরসিংদী টেলিফোন ভবনে ঘাটি স্থাপন করে। স্থানীয় টাউট, দালাল ও রাজাকারদের যোগসাজসে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা প্রতিদিন ধর্ষণ, নরহত্যা ও লুটতরাজ শুরু করে। 

অপরদিকে বাংলার মুক্তি পাগল ছেলেরা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয় এবং আঘাত হানে শত্রু শিবিরে। নরসিংদী সদর উপজেলায় নেহাব গ্রামের নেভাল সিরাজের নেতৃত্বে হানাদার প্রতিরোধ দুর্গ গড়ে তোলা হয়। ওই স্থান থেকে সমগ্র জেলায় মুক্তিযোদ্ধারা নিরলসভাবে তৎপরতা অব্যাহত রাখে।’

নরসিংদীর মুজিব বাহিনীর গ্রুপ কমান্ডার মো. মনিরুল জামান বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে নরসিংদীতেও মুক্তিযোদ্ধারা পিছিয়ে থাকেনি। দেশ মাতৃকার ডাকে সারা দিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন জেলার আপামর জন সাধারণ। পাকিস্তানী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমরা। মুক্তি বাহিনীর প্রবল আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নরসিংদী পাক হানাদার মুক্ত হয়।’ 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!