ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আশা জাগাচ্ছে ব্ল্যাক সোলজার চাষ 

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া 
প্রকাশিত: ১৫:০২, ৩ জানুয়ারি ২০২৩
আশা জাগাচ্ছে ব্ল্যাক সোলজার চাষ 
স্বল্পমূল্যের পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক পোলট্রি খাদ্য ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা প্যারেট পোকা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে স্বল্পমূল্যের পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক পোলট্রি খাদ্য ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা প্যারেট পোকা। 

মৎস্য ও পোলট্রি খামারিরা যখন খাবার নিয়ে অনেকটাই বিপাকে ঠিক তখনই ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা প্যারেট পোকা চাষে অনেকটাই সারা ফেলেছে কবির হোসেন নামে এক যুবক। কবির পৌর শহরের তারাগন এলাকার বাসিন্দা। 

ময়লা-আবর্জনা, তরকারীর অবশিষ্টাংশ, খাবারের উচ্ছিষ্ট, পচা ফলমূলের মতো ময়লার ভাগাড় ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের জন্য উপযুক্ত আবাস। এই খাবার পোলট্রির খামারে ব্যবহার করে তিনি যেমন উপকৃত হচ্ছেন তেমনি এলাকার অন্যদেরও এর চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন।

Advertisement

স্বল্পমূল্যের পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক পোলট্রি খাদ্য ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা প্যারেট পোকা। 

তিনি মুরগির জন্য বাজার থেকে কিনে খাবার ব্যবহার করেও কাঙ্খিত ফল পাননি। ঠিক তখনই ইউটিউব দেখে ব্ল্যাক সোলজার চাষে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। এরপর মুরগি হাঁস ও মাছের প্রাকৃতিক খাবার তৈরিতে তিনি ছুটে যান দিনাজপুরে। ওই জায়গা থেকে প্যারেট পোকার বীজ লার্ভা ক্রয় করেন। এরপর তিনি উপজেলার দক্ষিণ ইউপির গাজিরবাজার এলাকায় এ খামার গড়ে তুলেন। তাছাড়া ওই জায়গাতে তার একটি মুরগির খামার রয়েছে। ওই খামারে ২ হাজার মুরগি রয়েছে। অন্য খাবারের পাশাপাশি লার্ভা বা পোকা খাইয়ে বেশ লাভবান হচ্ছেন।

এই মুহূর্তে তার খামারে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে ৮-১০ কেজির উপর লার্ভা। খুব দ্রুতই তিনি তার খামারের চাহিদা মিটিয়ে অন্যদেরও এই খাবার সরবরাহ করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

তিনি আরো বলেন, দৈনিন্দিন খাবারের ফেলে দেওয়া অংশ যেমন পাকা কলা, পঁচা আলু, মাছ মুরগির নাড়িভুড়ি, সবজি, গম, ভুট্রার গুঁড়াসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল দ্রব্য দেয়া হয় পোকাগুলোকে। মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই খামারে শুরু হয় উৎপাদন। প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে লার্ভা ও পোকার সংখ্যা। শীত আসায় লার্ভা ও পোকার সংখ্যা কমে এসছে। তবে সব চেয়ে বেশি লার্ভা পাওয়া যায় গরম কালে।
 স্বল্পমূল্যের পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক পোলট্রি খাদ্য ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা প্যারেট পোকা। 
তিনি আরো জানান, একটি পূর্ণ বয়স্ক প্যারেট পোকা নিচে দুই থেকে তিন হাজার ডিম দেয়। ডিম দিতে প্রয়োজন ময়লার ভাগাড় বা উচ্ছিষ্ট খাবার। উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে কয়েকদিনেই লার্ভায় পরিণত হয়। ২১ দিন পর ওই লার্ভা হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবারের উপযুক্ত হয়। তবে উৎপাদিত লার্ভা হাঁস মুরগি ও মাছের জন্য খুবই উন্নত মানের খাবার। বর্তমানে তার খামারে প্যারেট পোকার লার্ভা ও মার্তৃপোকা তৈরি হচ্ছে। এর উৎপাদন ব্যয় নেই বলে চলে। 

প্যারেট পোকা উৎপাদন করতে দরকার হয় নেট মশারি, হাড়ি ও কাঠের টুকরো। এই পোকা পরিবেশ বান্ধব এবং কৃষকের বন্ধু। বাজারে মুরগির এক কেজি খাবারের মূল্য যেখানে ৬০-৭০ টাকা সেখানে এক কেজি লার্ভা উৎপাদরে খরচ মাত্র ১৫-২০ টাকা। এছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পচা জৈব পদার্থ লার্ভার খাবার হিসেবে ব্যবহার করারও সুযোগ রয়েছে। আর লার্ভাতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় অল্প খাবারেই মুরগির পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে।
 স্বল্পমূল্যের পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক পোলট্রি খাদ্য ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা প্যারেট পোকার খামার
আশপাশের কেউ এই খামার করতে চাইলে সবরকম সহযোগিতা করার কথা জানান খামারি কবির মিয়া। বর্তমান সময়ে পোল্ট্রি ফিডের উচ্চমূল্যের বাজারে ব্ল্যাক সোলজার খামারিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠছে বলে জানায়।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জুয়েল মজুমদার বলেন, আসলে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা প্যারেট পোকা চাষে মৎস্য ও মুরগির খাবারের চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা, তরকারির অবশিষ্টাংশ, খাবারের উচ্ছিষ্ট, পচা ফলমূলের মতো ময়লার ভাগাড় ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের জন্য উপযুক্ত আবাস। এ ধরনের পরিবেশ খুবই সহজলভ্য বিধায় ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা প্যারেট পোকা চাষে পোল্ট্রিশিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!