ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

খাঁটি মধুর ফেরিওয়ালা শাহআলম

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) 
প্রকাশিত: ১৫:১১, ৪ জানুয়ারি ২০২৩
খাঁটি মধুর ফেরিওয়ালা শাহআলম
মধু সংগ্রকারী শাহআলম মিয়া। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঞ্চাশোর্ধ্ব শাহআলম মিয়া। ভোর থেকেই দা, পাত্র আর খড়ের একটি আটি  নিয়ে ছুটে চলেছেন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। রাস্তায় চলার পথে তার দৃষ্টি শুধু গাছের দিকে থাকছে। দু’চোখে খুঁজছেন মৌচাক। 

এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকায়। গাছসহ নানা জায়গায় মৌচাক দেখা মাত্র ভেঙে মধু সংগ্রহ করে আবার তা বিক্রি করছেন। 

মধু সংগ্রকারী শাহআলম মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সরাইল কুট্রাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এভাবেই গ্রামে গ্রামে ঘুরে মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বর্তমানে তার পরিবারে স্ত্রী, ৮ মেয়েসহ ১০ জন সদস্য  রয়েছে। কলেজ পাড়া এলাকায় কথা হয় মধু সংগ্রহকারী ও বিক্রেতা শাহআলমের সঙ্গে।

Advertisement

মধু সংগ্রকারী শাহআলম মিয়া

তিনি জানান, দীর্ঘ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, আশুগঞ্জ, বিজয়নগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গাছ থেকে মৌচাক কেটে মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করছেন। 

শাহআলম বলেন, ব্যক্তি মালিকানা গাছ থেকেই বেশি মৌচাক ভেঙে মধু সংগ্রহ করছেন। এ জন্য মালিককে দিতে হয় সংগ্রহের অর্ধেক মধু। বাকী অর্ধেক নিজে রেখে সেই মধু বিক্রি করে যে অর্থ আয় করেন তা দিয়েই চলে তার জীবিকা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্রামগঞ্জ ঘুরে বিভিন্ন গাছপালা থেকে দৈনিক ৩ থেকে ৪ টি মৌচাক কেটে মধু সংগ্রহ করা যায়। সপ্তাহে ৫ দিন মধু সংগ্রহ করছেন। এক একটা মৌচাক কেটে নিচে ২ কেজি থেকে ৪ কেজি মধু সংগ্রহ হয়। 

মধু সংগ্রকারী শাহআলম মিয়া

মালিককে অর্ধেক দিয়ে বাকীটা ৪শ টাকা কেজিতে পাড়া মহল্লা হাট বাজারে বিক্রি করছেন। দৈনিক গড়ে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা মধু বিক্রি করে তার আয় হয়। এদিকে তার মধু খাটি হওয়ায় এরই মধ্যে এলাকায় বেশ সুনাম ও অর্জন করেছেন। অনেকে তার কাছ থেকে মধু নিতে ও মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করছেন বলে জানায়। তবে এলাকায় মধু বিক্রি কালে কখনো কখনো কম দাম নিলেও ভেজাল মধু কাউকে দেন না বলে জানায়। মৌসুম ছাড়া সব সময় মৌচাকে বেশি মধু পাওয়া যায় না। 

মধু সংগ্রহকারী শাহআলম বলেন, আগে ছোট বড় সব গাছে উঠে মৌচাক কেটে মধু সংগ্রহ করতাম। বয়স হওয়ায় এখন বড় গাছে উঠতে কষ্ট হয়। তাই একজন সহযোগী রেখেছেন। 

মধু সংগ্রকারী শাহআলম মিয়া

গাছ মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ি সংলগ্ন গাছের মধ্যে ১ টি মৌচাক রয়েছে। কয়েক মাস পর পর মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। তবে দক্ষ লোকের মাধ্যমে মৌচাক কাটায় পুনরায় এই গাছেই বসে মৌচাক। যারা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করছেন তাদেরকে অর্ধেক দেওয়া হয়। 

পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার মো. আলাউদ্দিন বলেন, বাজারে ব্যবসায়ীর দোকানগুলোতে যে সব মধু পাওয়া যায় তা যেন খাঁটি নয়। যারা গ্রামাঞ্চলে ঘুরে গাছ থেকে মধু সংগ্রহ করা মধু খুবই ভালো হয়। এতে কোনো ক্ষতিকারক কোনো কিছু থাকে না। শরীরের জন্য উপকারী। তাই ২শ টাকা দিয়ে আধা কেজি কেনা হয়েছে। 

মধু সংগ্রকারী শাহআলম মিয়া

শিরিন আক্তার লাকি বলেন, এখন সব কিছুতেই বেজাল। খাঁটি মধু পাওয়া খুবই দুষ্কর। বাজার থেকে কয়েকবার মধু কিনে ঠকেছি। যারা গ্রামে ঘুরে মৌচাক ভেঙে মধু বিক্রি করছেন তা খুবই ভালো পড়ছে। শাহআলম মিয়া বহু দিন ধরে এলাকায় খাঁটি মধু বিক্রি করছেন। যখন প্রয়োজন হয় তখন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার কাছ থেকে কেনা হয়। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, আসলে মধু খুবই উপকারী। সুস্বাস্থ্য গঠন, রোগ প্রতিরোধ ত্বকের সৌন্দর্য ও কোমলতা বৃদ্ধিতে মধু খুবই কার্যকর। ভ্রাম্যমাণ মধু সংগ্রহকারীর মধু অনেকাংশেই খাঁটি থাকে। তাছাড়া শাহআলমের মধু আসলেই খাঁটি। আধুনিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হিমেল খান বলেন, খাঁটি মধু খুবই শরীরের জন্য উপকারী। যা মানুষের সর্দি কাশি দূর করে, দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে। তাছাড়া শরীরের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধিতে মধু অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর বেজাল মধু শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারণ। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!