শনিবার সকালে কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ঠান্ডার কবলে পড়েছে ১৬ নদ-নদী বেষ্টিত প্রায় দু’শতাধিক চরাঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষেরা। গ্রামাঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষেরা কড়কুটো জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন।
কুড়িগ্রামে ঠান্ডার তীব্রতা বাড়লেও শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ছেনা। এখানে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ রয়েছে অপ্রতুল। ফলে ছিন্নমূল মানুষেরা বাধ্য হযে ঠান্ডা নিবারণের পুরাতন কাপড়ের দোকান গুলোতে ছুটছেন।
.png)
দোকানদাররা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে নতুন ও পুরাতন কাপড়ের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় এখানকার ঠান্ডা কাতর ছিন্নমূল মানুষেরা ঠান্ডা নিবারণে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন। সাধ্যের মধ্যে শীত নিবারণের কাপড় কিনতে না পারায় তাদেরকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
স্থানীয় ছিন্নমূল মেহেরন বেগম জানান, তার সাধ্যের ১০০ টাকা নিয়ে তিনি তার মেয়ের জন্য শীতের কাপড় কেনার জন্য বাজারের পুরাতন কাপড়ের দোকানে যান। কিন্তু ১০০ টাকা মূল্যের একটি পুরাতন কাপড় তিনি কিনতে পারেননি। দাম বেশি হওয়ায় তাকে খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে।
ঠান্ডার প্রকোপে এখানকার শিশু বয়োবৃদ্ধদের মাঝে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বর, সর্দি,কাশি ও শিশুদের মাঝে দেখা দিয়েছে নিউমোনিয়া ক’দিনের ঠান্ডায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা বিদ্যাবাগীশ গ্রামের হাসান আলীর ১৪ মাস বয়সী শিশুপুত্র মারা গেছে। তীব্র ঠান্ডায় শিশুসহ বয়ো বৃদ্ধরা বিছানাতেই সময় কাটাচ্ছেন।
পৌস মাসের শুরুতেই এখানকার জনপদে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডার প্রকোপ বৃদ্ধিতে অভিভাবকরা তাদের পরিবারের বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েন। শিশু ও বৃদ্ধদের ঘরের বাইরে বের হতে দেয়া হচ্ছেনা। এরপরও ঘরে বেশিক্ষণ মন না থাকলে বৃদ্ধদের আগুনের কুন্ডলি জ্বালিয়ে তাপ নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বৃদ্ধা তারা বিবি বলেন, ঠান্ডায় আমরা কষ্টে আছি। ঠান্ডা বেশি হওয়ায় খড়কুটো জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করছি। এতে অল্প সময়ের জন্য শান্তি পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে সময় পাড় করছি।
স্থানীয় ভূরুঙ্গামারী পাইকেরচড়া এলাাকার ছুমুর আলী জানান, শনিবারের তীব্র ঠান্ডায় উষ্ণতা নিতে ধানের খড় জ্বালাতে হয়েছে আমাদের। খড় না জ্বালালে ঠান্ডার তীব্রতা থেকে রক্ষা পাওয়া মুশকিল হতো। কুড়িগ্রামের তীব্র ঠান্ডার কারণে মানুষের সঙ্গে গবাদি পশু নিয়েও তারা বিপাকে বলেও জানান তিনি।
যুবক শাওন আহমেদ জানান, শনিবার সকালে ঠান্ডার পরিধি আরও বেড়ে যাওয়ায় সকাল ১০ টা পার হলেও বিছানায় শুয়েই ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করতে হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তফা শাহরিয়ার জানান, পৌষ থেকে ঠান্ডার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সকালে ব্যব্সা প্রতিষ্টান খুলতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা তুহিন মিয়া ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কুড়িগ্রামে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রিতে আসলেই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে এখানে।