ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ বিদেশে রফতানি

নাজির আহমেদ আল-আমিন, ভৈরব
প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ১০ জানুয়ারি ২০২৩
ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ বিদেশে রফতানি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের মানুষের অন্যতম প্রধান খাবার মাছ। এখন বাজারে মাছ কেনার পর দোকানিরাই আঁশ পরিষ্কার করে দিয়ে থাকেন। সেই আঁশ সাধারণত ফেলে দেওয়া হলেও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তা থেকে মিলছে বাড়তি আয়। রফতানি করা হচ্ছে বিদেশে।

জানা যায়, ভৈরবে ঐতিহ্যবাহী নৈশ্য মৎস্য আড়তে প্রতিদিন আমদানী হচ্ছে মণের মণ মাছ। আর সেখানে ঢাকাসহ আশেপাশের ক্রেতারা মাছ কিনতে আসলে তারা মাছের আড়তেই মাছ কেটে সাইজ করে নিয়ে যাচ্ছে। আর সেই মাছ কাটা শেষে যে আঁশ থাকে তা দিন শেষে শুকিয়ে বিক্রি করছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও সিলেট হবিগঞ্জ থেকে আসা ক্রেতারা নিয়ে যাচ্ছে। আর তারা রফতানি করছে বিভিন্ন দেশে। 

জানা গেছে, হাটবাজার থেকে প্রতিদিন এক মণের মত ভেজা আঁশ সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে।

Advertisement

তারা আরও জানান, তারা আগে মাছ কাটার পর আঁশগুলো ফেলে দিতেন। এখন তা জমা করে রাখছেন। বর্তমানে মাছের ফেলে দেওয়া আঁশ সংগ্রহ ও কেনাবেচার কাজ করছেন ১০ জনের মতো আঁশ ব্যবসায়ী। এ ব্যক্তিরা মাছ বাজার থেকে আঁশ সংগ্রহ করেন। এরপর সেগুলো বাড়িতে নিয়ে রোদে শুকিয়ে বস্তাজাত করে রাখেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ থেকে ক্রেতারা এসে সেগুলো নিয়ে যান। পরে ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা সেগুলো সংগ্রহ করে দেশের বাইরে রফতানি করেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার থেকে সংগ্রহ করা মাছের আঁশ দিয়ে উন্নতমানের প্রসাধনী, ফুড সাপ্লিমেন্ট, ক্যাপসুলের ক্যাপসহ জরুরি সামগ্রী তৈরি করা হয়।

আঁশ সংগ্রহকারী ব্যবসায়ী আমিন, সোহাগ, হেলেনা, রইছ মিয়া জানান, চার থেকে পাঁচ মণ আঁশ জমা হলে পাইকারেরা বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যান। প্রতি কেজি প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে করোনা মহামারির আগে এগুলো ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের কারণেই এর দাম এখন কম।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, সরাসরি রফতানির সুযোগ না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারছেন না। ভবিষ্যতে যদি সরাসরি রফতানির সুযোগ পান, তবে আশানুরূপ লাভবান হবেন এবং ব্যবসার পরিধির সম্প্রসারণ ঘটবে বলে তারা আশাবাদী। এছাড়া ভৈরবে মাছের আমদানী ভালো হলেই আড়তে ঢাকাসহ আশা পাশের ক্রেতারা মাছ কিনে আড়তেই মাছ কাটে আর সেই সুবাধে আমাদের মাছের আশের আমদানী ভালো হয়।

আড়তের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী মো. ফারুক, হানিফ, মানিক জানান, স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও আঁশ সংগ্রহকারীদেরকে আঁশগুলো ফেলে না দিয়ে যত্নসহকারে জমিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি তারা সরাসরি বিদেশে রফতানি করতে পারলে লাভ অনেক বেশি হবে। এতে সরকারি সহযোগিতা ছাড়াও তাদের এই সম্পর্কে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা লতিফুর রহমান মাছের আঁশ সংগ্রহ ও বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, ভৈরব মৎস্য আড়তে প্রতি রাতে রুই কাতলা ঘাস কাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় ধরনের বিপুল পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়। এসব মাছের আঁশ বিক্রয় ও প্রক্রিয়াজাত করণের সঙ্গে কিছু লোক জড়িত তারা এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সিলেট, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। আশঁ বিক্রি করে তারা প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মতো আয় করছে। এ আইশ থেকে কোলাজন তৈরি, ফার্মাসিটিক্যাল, ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরি করা হয়। আশঁ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!